প্রকাশ : ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫১
শুষ্ক বকুলের মালা

এখনো কি মনে আছে তোমার, ঝোপের ধারের বুলবুলি পাখিদের কথা?
ভালোবাসায় মোড়ানো সে পাখিদের ছোট্ট বাসায় দুটি মিষ্টি ছানা ছিল,
একটু কাছে গেলেই সে কী চেঁচামেচি পাখিগুলোর!জানো, এখন আর আগের মতো পাশের বাগিচা থেকে ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দ আসে না অবিরাম, তুমি যে কত বিরক্ত হতে, তা আজও মনে আছে আমার।
শিমুলতলার সে ছোট্ট খেয়াঘাটে আজ আর মাঝি নেই,
নৌকার যুগ ফুরিয়ে গেছে কিনা, তাই সব বদলে গেছে।
মনে আছে নিশ্চয়ই, একদিন সে নৌকায় তুমি-আমি মিলে একটা সারা বিকেল শাপলা তুলেছিলাম,
তুমি মরা নদীর পরিষ্কার জলরাশি কত ভালোবাসতে।কাকডাকা ভোরে বকুলতলায় ছুটে যেতে নিবিড় প্রভাতে,
সে কী চমৎকার মালা বুনতে ঝরা বকুলের!
তোমার দেওয়া একখানা মালা আজও রেখে দিয়েছি স্বযত্নে,
এটি আর প্রাণবন্ত নেই, পুরোনো স্মৃতির মতোই শুষ্ক।এখনো কি কবিতা পড়ার অভ্যাস আছে তোমার?
জীবনানন্দের কবিতা, কিংবা আল মাহমুদের,
তুমি কবিতা পড় বলে এখন আমিও কবিতা লেখা ধরেছি।
হেসো না, আমি জীবনানন্দের মতো লিখতে জানি নাÑতাতে কী?
সবাই তো আর সবটা পারে না।জানো, এখন অনেক নির্ঘুম রাত কাটে, বড় বিষণ্ন লাগে;
মনে হয়, বুকের বাঁ পাজরে একটা সুপ্ত আগুন আমায় দগ্ধ করে।
তোমাকে হারানোর পর মহাকাশের অসীম শূন্যতা বুকে বাসা বেঁধেছে,
জীবনের আশা ক্ষীণ হয়ে আসছে ক্ষণে ক্ষণে।আমি কিন্তু কেবল পুরো একটা জীবন তোমার সাথে কাটাতে চেয়েছি,
এ ছাড়া এমন আর কী চেয়েছি বলো?
জোড়া বেঁধে সে বুলবুলি পাখির মতো ছোট্ট বাসা বাঁধার সখ ছিল,
দুজন না হয় একটা জনম নীল আকাশে উড়েই কাটিয়ে দিতাম।








