প্রকাশ : ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৪:০৭
বিশ্বকাপের গুচ্ছ ছড়া
বিশ্বকাপের গুচ্ছ ছড়া
পীযূষ কান্তি বড়ুয়া
১. বিশ্বকাপের জ্বর
চার বছরের এপার-ওপার
বিশ্বকাপের খেলা
খেলা তো নয় মহামিলন
চঁাদ-তারাদের মেলা।
ছয় মহাদেশ আলো করে
একটা কাপের শোভা
এক মহাদেশ বরফ ঢাকা
তাই সে থাকে বোবা।
বত্রিশ হতে বেড়ে এবার
আটচল্লিশ দলে
খেলার মাঠে জুনির মতো
নিজের আলোয় জ্বলে।
হামের সাথে নতুন অসুখ
বাংলাদেশের ঘরে
ছেলে-বুড়ো ভুগছে সবাই
বিশ্বকাপের জ্বরে।
২. বিশ্বকাপের জীবাণু
বাংলাদেশের ঘরের চালে
এবং গাছের আগায়
অন্য দেশের পতাকাতে
প্রশ্ন মনে জাগায়।
এরা কারা কী ভেবে আজ
এমন কাজটা করে!
বুঝতে পারি পেপার পড়ে
ভুগছে সবাই জ্বরে।
এমন জ্বরের অষুধ তো নেই
ভুগতে হবে বেশি
এই জীবাণুর কয়েকটা নাম
এমবাপে বা মেসি।
এক জীবাণুর গায়ে হলুদ
নাম নাকি নেইমার
তাদের দেখে রান্নাঘরে
হারালো খেই মা’র।
৩. মেসি
এক লোকে পায়ে পায়ে
জাদু করে বলে
ফঁাক পেলে গোলে মেরে
হঠাৎ সে জ্বলে।
এইবার তার নাকি
নামখানা আগে
কাপ জয়ে সকলের
ভোট তার ভাগে।
সে যখন মাঠে নামে
সে কি করতালি!
হতে পারে নিমেষেই
গোল এক হালি।
পৃথিবীতে তার চেয়ে
ফ্যান নেই বেশি
শত্রুরও ভালোবাসা
পেয়ে গেছে মেসি।
৪. ব্রাজিল
দুনিয়াতে ফুটবলে
এক জাতি বঁাচে
অন্যরা খেলে আর
তারা মাঠে নাচে।
তারা যদি নামে মাঠে
মাঠ ভরে ফুলে
ফুটবলে পা ছেঁায়ায়
তারা হেলে-দুলে।
গোল নয় কাপ নয়
তারা যদি থাকে
ফুটবল তবে মাঠে
শুধু ছবি অঁাকে।
তাদের যে রাজা আছে
গরীবের ছেলে
সকলের আদরে সে
পরিচিত ‘পেলে’।
৫. প্রতিবেশি ভাইয়ে ভাইয়ে
যেন দা’য়ে কুমড়ায়
খেলা দেখে এটা সেটা
মোচড়ায় দুমড়ায়।
বড় ভাই ব্রাজিলের
ছোট ভাই মেসিদের
দুজনে দুপক্ষের
ক্ষতি প্রতিবেশীদের।
মুখে মুখে তর্কের
লেগে গেলো মহারণ
দেখা যাক জিতবে কে
সীতা-রাম না রাবণ।
এ আগুনে ঘি দিয়েছে
জার্মানি জাপানও
হারজিত শেষে গেলো
শ’টাকার চা-পানও।
বিশ্বকাপ ২০২৬
পীযূষ কান্তি বড়ুয়া
বিশ্বকাপের কেমন জাদু
কেমন মায়ার টান
তাকে পেতে কঠিন লড়াই
দেয় ঢেলে মন-প্রাণ!
কাপ সেতো নয় যেমন তেমন
যায় না খাওয়া চা
তবুও এই কাপকে পেতে
লড়ছে মনুর ছা!
মোট আটচল্লিশ দলের রণে
কুরুক্ষেত্র মাঠ
কেউ কাউকে দেয় নাকো ছাড়
এমন মরণ পাঠ!
বাঘ-মহিষে লড়াই যেমন
তার চেয়ে নয় কম
ব্রাজিল নাকি আর্জেন্টিনা
কার বেশি উদ্যম?
সবাই এখন মেসির ভক্ত
আমি ভাই নেইমার
ইচ্ছে করে ব্রাজিল ছাড়া
সবারে দেই মার।
শিল্পকলা
পীযূষ কান্তি বড়ুয়া
ব্রাজিল মাঠে বল খেলে না
ছন্দে লেখে ছড়া
সেই ছড়াতে বল গড়ালে
নৃত্য করে ধরা।
ব্রাজিল মাঠে গোল করে না
বল তবু যায় জালে
এসব ঘটে জাদুর মায়ায়
শিল্পকলার চালে।
ব্রাজিল মাঠে নামলে তবে
মাঠ হয় নক্শী কঁাথা
এগারজন সেলাই করে
একটি সবুজ পাতা।
থাকলে ব্রাজিল খেলার মাঠে
রংতুলিরা হাসে
বলের মধ্যে প্রাণের ছেঁায়া
টের পাওয়া যায় শ্বাসে।
ব্রাজিল তো নয় কাপের জন্যে
কাপ এসে দেয় ধরা
নব্বই মিনিট খেললে ব্রাজিল
হয় ভালো রোগ-জরা।
বিশ্বকাপ ফুটবল
পীযূষ কান্তি বড়ুয়া
পৃথিবীতে আজ একটা গোলক মাতিয়ে বেড়ায় পাড়া
শিশু হতে বুড়ো অচল ও কুঁজো যে হারায় শিরদঁাড়া
রাত জেগে সবে নাচে উৎসবে ঘুম নেই কারো চোখে
বিজয়ীরা হাসে অতি উল্লাসে মন ভাঙে কারো শোকে।
চামড়ার দ্বারা বানানো গোলক জ্যোতি নেই কিছু মোটে
তবু কী জাদুতে নাতি বা দাদুতে ছোটে তার পিছু ছোটে
চঁাদ সে তো নয়, সূর্যও নয়, নেই তার কোনো দ্যুতি
তবু আছে তার দেহেতে অপার অনুরাগ-অনুভূতি।
চার বছরের এ মাথা ও মাথা সে আসে মাটিতে নেমে
তার কারণেই হঠাৎ দুনিয়া নড়ে ওঠে ভিতে ঘেমে
সুনীল আকাশে পতাকারা ওড়ে যেন পাখিদের দলে
বসিয়েছে মেলা হাওয়াতে ভেসে সম্মিলনের ছলে।
কারো গায়ে জামা সরিষা ফুলের রং মেখে সেজে ওঠে
কারো হৃদয়ের লাল রং বুঝি এসে জড়ো হয় ঠেঁাটে
কারো জার্সিতে আকাশ মিশেছে কারো জার্সিতে সাদা
কে যে কার প্রিয় কেন অপ্রিয় তাই লাগে মনে ধঁাধা।
এ আসরখানি সকলেই জানি বিশ্বকাপের নামে
সকলকে রাখে জাদুর মন্ত্রে মোহিত করে এ ধামে
যে গোলকখানি গড়িয়েছে মাঠে ফুটবল তারে ডাকে
কেউ তাকে রাখে মাথার ওপরে কেউ সদা মনে অঁাকে।
আঠারো আনা
পীযূষ কান্তি বড়ুয়া
আজকে ব্রাজিল জিতলো ম্যাচে
ফুটলো মাঠে ভিনি
দেখতে যেন পেলের নাতি
হাজার বছর চিনি।
মাঝমাঠে হায় কেবল খুঁজি
সক্রেটিসের ছায়া
খুঁজতে থাকি রোনালদিনহো
সব যে মিছে মায়া!
গোলের মেশিন রোনালদো নেই
নেইতো রোমারিও
নাচের তালে খেলতো তবু
পাক্কা বোমারি ও!
এমন খেলে হেক্সা পেলে
ব্রাজিলকে কি মানায়?
তাহলে কাপ পেতেই পারে
কেইপ ভার্দো ঘানায়!
নিজের ছেলে সে যত হোক
অন্ধ কিংবা কানা
ব্রাজিল আমার মনপ্রিয় দল
ঠিক আঠারো আনা।







