প্রকাশ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪৪
রিজিকের ফায়সালা এবং পাগলার বুঝ

দ্রুতগতিতে চলা একটি মালবাহী রিকশা হঠাৎ করেই থেমে গেল। চেয়ে দেখি, রিকশা থেকে পড়ে গেছে বড় একটি প্যাকেট। প্যাকেটটি ফেটে সাদা বর্ণের খাদ্যসামগ্রী ছড়িয়ে পড়েছে রাস্তায়। আরেকটু এগিয়ে দেখি, রিকশার পেছনে একটি মোটরসাইকেল দঁাড়িয়ে আছে। তার সামনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে মুড়ি আর প্যাকেটের অংশবিশেষ। রিকশাওয়ালার সাথে কথা বলছে মোটরসাইকেল আরোহী।
প্রথমে আমার মনে হলো, হয়তো মোটরসাইকেলের ধাক্কায় রিকশাওয়ালার মুড়ির প্যাকেট পড়ে ফেটে গেছে।
আমি আর আমার এক সহকর্মী ঘটনাস্থলে এগিয়ে গেলাম, মীমাংসার উদ্দেশ্যে। কিন্তু আমরা পেঁৗছানোর আগেই মোটরসাইকেল আরোহী সেখান থেকে চলে যেতে শুরু করল। আমরা তাকে জিজ্ঞেস করলাম, “মুড়ির প্যাকেট কীভাবে পড়লো?”
সে সংক্ষেপে জবাব দিল, “এমনিতেই পড়েছে। ”
এবার রিকশাওয়ালার দিকে তাকালাম। তার চোখেমুখে কারও প্রতি কোনো ক্ষোভ বা অভিযোগের ছাপ নেই। বুঝলাম, ঘটনাটি সম্ভবত দুর্ঘটনাবশতই ঘটেছে।
পাশে দঁাড়িয়ে থাকা কয়েকজন পথচারী বলছিল, “উপরের দিকের মুড়িগুলো তো ভালোই আছে, সেগুলো তুলে নিলে খাওয়া যাবে। ”
কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়, রিকশাওয়ালা একবারও সেদিকে হাত বাড়াল না। নিঃশব্দে সে রিকশা নিয়ে চলে গেল।
ঠিক তখনই ঘটলো আসল ঘটনাটি।
জেলা প্রশাসকের বাসভবনের দেয়ালে হেলান দিয়ে বসে ছিল একজন মানসিক ভারসাম্যহীন ভবঘুরে, পাশে একটি কুকুর। মানুষটি ধীরে ধীরে উঠে এসে মুড়ির স্তুপের কাছে দঁাড়ালো। কুকুরটিও তার পিছু নিল। ভবঘুরে লোকটি মুঠো ভরে মুড়ি তুলে খেতে লাগলোÑতৃপ্তির সাথে, যেন অনেকদিন পর খাবার পেয়েছে।
দৃশ্যটি দেখে আমার মনে হলো, যদি মুড়িগুলো একটি পলিব্যাগে তুলে তাকে দেওয়া যায়, তাহলে সে পরে আরও খেতে পারবে। এই ভাবনা থেকেই কাছের একটি দোকান থেকে একটি পলিব্যাগ নিয়ে এলাম। কিন্তু মুড়ি তুলতে এগিয়ে যেতেই লোকটিকে কিছুটা উত্তেজিত ও অস্থির মনে হলো। আমার সহকর্মী ঝুঁকি না নিতে পরামর্শ দিল।
তাই আমরা দূর থেকে পলিব্যাগটি তার হাতে দিয়ে সরে দঁাড়ালাম।
কিছুক্ষণ পর, আরেকজন তরুণ সাহস করে ভালো মুড়িগুলো একটি পলিব্যাগে ভরে তার হাতে তুলে দিল। কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে, ভবঘুরে লোকটি হঠাৎ ক্ষিপ্ত হয়ে উঠল। সে পলিব্যাগটি ঘুরাতে ঘুরাতে ছুঁড়ে মারল জেলা প্রশাসকের বাসভবনের দেয়ালের ওপরে।
ঘটনাটি দেখে আমরা কিছুক্ষণ নির্বাক হয়ে রইলাম।
আমার সহকর্মী ধীরে বলে উঠলেন,
“আল্লাহ তাকে রিজিক পাঠালেন, আর সে তা ছুঁড়ে ফেলে দিল। ”
আমি চুপ করে রইলাম। মনে মনে ভাবলামÑ
রিজিক শুধু পাওয়াটাই নয়, তা গ্রহণ করার বুঝটাও সবার থাকে না। কেউ অভাবে থেকেও কৃতজ্ঞ, আবার কেউ প্রাপ্তির মাঝেও অস্বীকার করে।
হয়তো এটাই জীবনের এক নীরব শিক্ষা।
রিজিকের ফায়সালা যেমন আল্লাহর হাতে, তেমনি তা গ্রহণ করার সামথর্যও বুঝও সবার জন্য সমান নয়।
ছবি:
ভালোবাসবো শুধু তোমাকেই
নিশি পাটওয়ারী
[২০২৪-এর জুলাইযোদ্ধাদের জন্য উৎসর্গিত]
ভিনদেশের দাসত্বে হারালাম স্বাধীনতা;
কথা বলার অধিকার অপশাসনে দিনের পর দিন নিস্পেশিত হলাম;
একেবারে নিরবে।
ঘুষখোর, দুর্নীতিবাজ, চঁাদাবাজ টেন্ডারবাজ,
চোর-ডাকাতে ভরা আমার সোনার বাংলা
সকলের সামনে সবাই আতংকে দিন কাটাচ্ছে;
মুখে তালা।
ঋণখেলাপি হয়ে যায় আমাদের নেতা
লুট করে নিয়ে যায় ব্যাংক দিনে দুপুরে
আইন-কানুন সব বঁাধা বইয়ের পাতায়
জীবন বঁাচানোর তাগিদে দেঁৗড়াচ্ছে আমজনতা
গুম হয়ে যাওয়া মানুষের জীবন মরণযন্ত্রণায় কাটে আয়না ঘরে
প্রিয়জনদের অপেক্ষার শেষ হয় না বুড়িগঙ্গায় ভেসে যায় অচেনা লাশ।
অসহায় মানুষের মুক্তির দাবিতে দেখতে চাই তোমাকে;
মিছিলের অগ্রভাগে রক্তাক্ত হয়ে ফিরে আসবে
আমার বুকে রক্তের শপতে চিৎকার করে বলবো
সারাজীবন শুধু তোমাকেই ভালোবাসবো।
কেশরাঙ্গা
০৭ মার্চ-২০২৬
ছবি :
পথশিশু
বিথী আক্তার
পথের ফুল,
রাস্তার ছায়া
তাদের ঘর,
তাদের মায়া
কেউ নেই তাদের, নেই কোনো ঠিকানা
তবুও তারা, হাসে আনন্দে
রোদের তাপ, বৃষ্টির ঝাপটা
তাদের সাথী, তাদের ঝাপটা
কেউ নেই তাদের, নেই কোনো ভরসা
তবুও তারা, করে হাসি আনন্দ
পথের ধূলা, রাস্তার কষ্ট
তাদের সাথী, তাদের বস্ত
কেউ নেই তাদের, নেই কোনো আশা
তবুও তারা, করে ভালোবাসা
তারা পথশিশু, তারা রাস্তার ছেলে-মেয়ে
তারা হারিয়ে যাওয়া, তারা খুঁজে পাওয়া
তারা আমাদের, তারা আমাদেরই ভাই-বোন
তাদের জন্য, আমাদের কিছু দায়।








