প্রকাশ : ০৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৩:১১
পাঠক ফোরামের কবিতা
তানিয়া রাত্রির কবিতা শেকড়
আমরা এ রকম করবো কেমন?
সারা দিন-রাত পাশাপাশি শুয়ে থাকবো!
আর শরীরের অক্ষর ভরা উপন্যাস পড়বো?
পৃথিবীর এত যুদ্ধের কী কারণ?
কে দূরন্ত জোছনায় চাঁদ ছুঁয়ে দিলো?
চারদিকে মেশিনের মতো সব মানুষ আর তাদের নীল দীর্ঘনিঃশ্বাস।
এসব জেনে আর কী হবে?
আষাঢ়ের বজ্রপাতেও কিছু যায়-আসে না।
আমি কেবল জানি পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমাহীন গাঢ় এক ভুল।
আমার ভিতরে সুগোপনে
একটি স্বদেশ রেখেছি।
সেখানে আমার অদেখা শিকড়, যার শিকড়ত্ব নেই,
অথচ তাকে আমি ভালোবাসি।প্রেম স্বপ্ন মৃত্যু
প্রেম-স্বপ্ন-মৃত্যু
প্রেম কি আমাদের হৃদয়ে?
আমার সাথে চল,
ভেসে যাই দূর কোনো আবিষ্কারের দেশে।
তোমার ওই সুন্দর জন্তুর মতো দেহে
শুধু রক্ত, শুধু শরীর?
বাঘের বিক্ষোভ নিয়ে
আমাকে হরিণী করে
নদীর কিনারে চলো।
শুধু সাথে থাকো
আমার উজ্জ্বল মৃত্যু হয়ে,
আমার প্রেম হয়ে।
দুঃখময় পৃথিবীতে আমি পুরোনো হয়ে গেছি কবেই।
তবুও মৃত্যুও আমার মোহে পড়ে নি আজও।
হে স্ববির প্রেমিক,
কত নগর-বন্দর খুঁজেছি আমি;
তারপর তোমার কাছে এসে থামি।
তুমি যদি মরীচিকা হও, আমি তবে মরুভূমি।
মন ছুটন্ত অশ্বমন তো ছুটন্ত অশ্ব।
কোথায় থামবে, কোথায় তার লাগামÑ
কিছুই জানা নেই।
আর আমি কোনো সুরও নই,
সংগীতও নই।
আমি শুধুই শব্দ,
নিজের ভেঙে যাওয়া শব্দ।
অথচ আমার কোনো কবর হয়নি,
আমিই কবর হয়ে গেছি।
কোনো স্মৃতি তো জমানো হলো না,
যম তো কয়েকদিন পরে এলেও পারতো।
পাথর ও প্রতীক্ষাদরজার সামনের পাথর কষ্ট করে আর সরাতে হবে না তোমায়।
আমি তো পাথরে মাথা কুটেই ওকে শেষ করতে পারতাম,
কিন্তু তা করবো না।
তুমি বরং ছোট পাথর হয়ে আমার বুকে এস।
আমাকে তো বুকে পাথর বেঁধেই বাঁচতে হবে না, তাই না?
আর তোমার প্রহরীর দুর্ব্যবহার আমি গায়ে মাখি নাÑ
ও তো আমার পুরোনো মিতা।
প্রতি রাতেই দেখে
তোমার দরজায় চুমু খাচ্ছি।
শস্যের প্রতীক্ষাপৃথিবীর ঢের জন্ম নষ্ট হয়ে গেছে।
আমি আমার জন্ম নষ্ট করতে চাই না।
খনার কর্তিত জিহ্বার মতো আমার সত্য উচ্চারণ।
আমি ভূমি হতে চাই।
শরীরে কতটা মাটি মেখে নিলে আমি জমি হবো?
সীমান্তের কাঁটাতার ঘেঁষা জমি,
চাষের ক্ষেত,
অথবা শস্যের মাঠÑ
নয়তো সীমান্তের কাঁটাতার ঘেঁষে পড়ে থাকা তুচ্ছ অচেনা সবুজ,
যার ওপারে আছে এক অজানা দেশ,
আর আছে আমার না জানি কি।
আমি তার শব্দবীজের অপেক্ষা করি।
জন্মেছে যারা পৃথিবীর বীজ খেতে,
অথবা আজও জন্মাবে বীজ খেতে,
তাদের মতো আমার হৃদয় নয়।
তাই আমি মাটির খাদ্য হতে চাই না।
আমার অসহনীয় অসীম আয়ু বয়ে নিয়ে
শব্দশস্যে, নিত্যানন্দে স্বপ্নময় ভোর হতে চাই।
আমার না জানি কি প্রিয়Ñ
দধীচির মতো সাধক চাষি হোক।
আমার শরীরিক মাটি কর্ষণ করেই
কৃষি প্রতিভা দেখাতে দেখাক।
মাতাল মৃতবৎসা পৃথিবীতে
তারই জন্যে অবিশ্রান্ত প্রতীক্ষা।অরুন অতলান্তিক
অতল সিন্ধু-নীরে আমি আজি হয়েছি নিমজ্জমান,
স্মৃতির শ্যাওলায় লীন হয়েছে আমার চপল প্রাণ।
নিভে গেছে মোর দীপাধার, আমি হারানো এক নাবিক,
তোমার আশার ধ্রুবতারা খুঁজিÑ দিশেহারা চারিদিক।
ফুরিয়ে গেছি আমি মহাকালের ধূসর বালুচরে,
অপেক্ষার পাষাণ ভার বুকে লয়ে একা মরি তীরে।
দিবস ফুরায়, রজনী নামে নিবিড় তিমির বেশে,
তোমার ফেরার স্বপ্ন বুনি আমি বিরহী মেঘের দেশে।
এক একটি দিন যেন সহস্রাব্দ, কাটে না বিষাদ-ক্ষণ,
অধিক দিনের প্রতীক্ষায় ক্ষয়ে যায় অবুঝ মন।
গভীর সাগর-তলে আমি রুদ্ধবাক এক মৃত ঝিনুক,
মুক্তার বদলে জমাট বেঁধেছে যাতনার নীল অসুখ।
তুমিহীনা এই নিশীথিনী আজ রিক্ত, শূন্য, খাঁ খাঁ,
হৃদয়-পিঞ্জরে গুমরে মরেছে আহত পাখির পাখা।
শুন্য মনে হয় এই ধরণী, শূন্য আকাশের বুক,
তোমারই অভাবে মরীচিকা সকল পার্থিব সুখ।
স্মৃতিরা কেবল ফেনিল তরঙ্গে আছড়ে পড়ে ঐ তটে,
তোমার প্রতিচ্ছবি খুঁজে ফিরি জীবনের জীর্ণ পটে।
হারিয়ে যাওয়া সে নাবিক আমি, গন্তব্য নেই জানা,
তোমার বিহনে জগৎ আমার আজো যে অচেনা-অজানা।
এম আর এম শোভন
আমি রাজাআমি রাজা
ভাবতেই কেমন অবাক লাগে
ক্ষমতা আমার কাছে
আমি সবার আগে।আমি রাজাÑ
আমারতো অনেক টাকাÑ
তবু মিথ্যাকে বলি সভ্যতা,
আর সত্যকে বলি ষড়যন্ত্র
এটাই আমার মূলমন্ত্র ।আমি রাজা
আমি তো জজ, আছে মেজিস্ট্রেসি শক্তি
তবুও প্রজার কাছে সস্তা শ্রম ভিক্ষা করি,
সেই শ্রময়েই গড়ে তুলি
নিজের কল্পনার সিংহাসন।আমি রাজা
আমি সরকারি চাকুরীজীবি
জনগণের ক্ষুধা, কান্না, দুঃখ
সবই দেখি না দেখার
ভাবটা ভীষণ।আমার আছে রাজনৈতিক শক্তি,
অর্থের অহংকারটা কম নয়
কিন্তু দেহের ভিতর,
লুকিয়ে থাকা মনটা বলে
তুমি রাজা নও,তুমি কেবল একজন মানুষ
তোমার রাজত্ব টিকে আছে
মানুষের নীরবতার ওপর
যেদিন মানুষ জেগে উঠবে
আত্ম চিৎকার করে বলবে
আমরা তোমার রাজত্ব মানি নাসেদিন আকাশ বাতাস পাহাড় পর্বত তাকিয়ে থাকবে
তোমার মলিন চোখগুলোর দিকে
আর বলবে ওই যে দেখ মিথ্যে রাজাকে।মুহাম্মদ শাহিন
তুমি
আমি যদি হতাম উড়ন্ত যান,
তুমি হতে আমার যাত্রী,
দেশ-বিদেশে ঘুরে ঘুরে
কাটত আমাদের রাত্রি।
নীল আকাশের বুক চিরে
উড়তাম আমরা দু’জন,
নক্ষত্রেরা তাকিয়ে দেখত
হারানো সুখের অন্বেষণ।
সময় তখন থেমে যেত,
ক্লান্তি নিত নির্বাসন,
শব্দহীন এক নীরবতায়
জাগত ভালোবাসার ব্যাখ্যান।
অন্ধকারের বিভীষিকায়
হারিয়ে যেতাম আধারে,
আমাদের নাগাড় পেত’না কেহ
না শহরে, না পাহাড়ে।
পৃথিবী হতো ক্ষুদ্র তখন,
আকাশ হতো সীমাহীন,
আমি শুধু উড়তে জানতাম,
তুমি হতে আমার চিরদিন।শাহ আলম ইচ্ছে হয় যদি
ইচ্ছে হয় যদি কখনো
ভিজতে বর্ষণে আমার আঙ্গিনায়
বাঁধা নেই চলে এসো
যে কোনো শ্রাবণের ধারায়।
তোমার চাঁদটি যদি কখনো
নিশির আঁধারে হারায়
আমার চাঁদটি রইলো তোমার
আলো নিতে পারো নির্ভয়।সাঈদুর রহমান লিটন
কোকিল ডাকে গাছের ডালেকোকিল ডাকে গাছের ডালে
গান শোনা যায় বসন্ত কালে।
নতুন পাতা গাছে গাছে
গাছের ডালে দোয়েল নাচে।
সবুজ রঙে গেছে ছেয়ে
কলসি কাঁখে ছুটছে মেয়ে।
আকাশ ভরা কালো মেঘ
বাতাসের তাই বাড়ছে বেগ।
শুকনো পাতা গাছের তলে
ঝিঁঝিঁ পোকা কথা বলে।
গানে গানে সুরে সুরে
রাখাল বাঁশি বাজায় দূরে।








