শুক্রবার, ০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:২১

পেইন্টার

ইসরাত জাহান তন্নি
পেইন্টার

(পূর্ব প্রকাশের পর)

তবে এতোটুকু বুঝতে পারতেছি সেখানে কোন একটা আলো দেখা যাচ্ছে। আর সেই আলোটা টাওয়ারটা যে আছে বোঝা যাচ্ছে। ঠিক করলাম দিনের বেলা অবসর হয় সেদিকে একবার যাব। এভাবে পায়ছাড়ি করতেছি।আর হঠাৎ দোকানদারের স্ত্রী আম্রপালি কথা মনে হল,তার হাতের বানানো খাবারগুলো বেশ সুস্বাদু হতো। আমার আবার সেই খাবারগুলো খেতে ইচ্ছে করতেছে। কিন্তু কি আর করা কিছু পেতে হলে কিছু তো হারাতে হয়! আমি আমার প্রপেশনের জন্য আম্রপালির সেই স্বাদের খাবার সেক্রিফাইজ করতে হচ্ছে।তবে আমি ফিরে যাওয়ার পথে পুনোরায় আবার যাব তাদের বাসায়। আর বিশেষ করে আম্রপালির খাবার তৈরি করে যেখানে সে স্থানটায় বসব গিয়ে।তবে সকল পেন্টারের সাথে আম্রপালির বাড়ির ও দৃশ্য আকঁব তিনটা টা।একটা তাকে দিয়ে যাব আর একটা কোম্পানির জন্য আর শেষটা আমার বাসায় স্মৃতি হিসেবে রাখব।এসব চিন্তা ভাবনা করতে করতে প্রায় দশটা বেজে গেল। সালেহ আর বিধান এসে রোমে না দেখে আমাকে ডাক দিতেছে। সাহেব..সাহেব.ও সাহেব...! আমি তরিগরি করে রুমে গেলাম। তারা হাসি দিয়ে বল্লো আমরা খুজঁতেছি আপনাকে সাহেব। রোমে না দেখতে না পেয়ে ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম! তখনই আমি বললাম,একটু সময় কাটানোর জন্য ছাদে গিয়েছিলাম।বিধান চমকে উঠে বলে আশেপাশে কিছু ছিল না তো সাহেব.?আমি বললাম না তেমন কিছু না কিন্তু কেন? আর কি এমন আছে যে তুমি এতোটা আশ্চর্য হচ্ছো?সালেহ বলে না সাহেব কিছু না।ও খামখা দুশ্চিন্তা করে যেহেতু আপনি কিছু দেখেনি তাহলে এবার ফ্রেশ হয়ে চলে আসুন খাবার টেবিলে।আমি বললাম চলো। আর দূরের টাওয়ার যে আলো দেখেছিলাম সে ব্যাপারটা ইচ্ছে করেই বলিনি।কারন আমি খেয়াল করেছি এই দুই দিনে এখানে সবকিছুই রহস্যময়!সকালে মুরুব্বীরা আড় চোখে কথা বলা,বিধান ও সালেহ আমাকে না দেখতে পেয়ে ভয় পাওয়ার, বাসায় কাজ করতে আসা বয়স্ক মহিলা, সকল কিছু কেমন যেন এলোমেলো লাগতেছে। তবে কাল একবার ওখানে সরাসরি গিয়ে দেখে আসব। চলে গেলাম খাবার টেবিলে।গিয়ে দেখি টেবিলের পাশে সে বয়স্ক মহিলা নেই! তবে লুকিয়ে লুকিয়ে খুজতেছিলাম নিজে নিজে। এদিক ওদিক তাকিয়ে ছিলাম ও বেশ কয়েকবার। তাদের জিজ্ঞেস করলে কি না কী ভাবে তাই আর কিছু না বলে খাবার খেয়ে চলে এলাম রুমে। বিছানার চাদর ঠিক করে বালিশে মাথা লাগালাম।তখন মনে পড়ল আমি আসার দিন রাতে যখন লাগেজ গুছাতে অনেক সময় হয়ে গেল তারপর শুয়ে ছিলাম আর খুব সুন্দর করে পাখি ডাকতেছিল। কি অপূর্ব সুমধুর কণ্ঠস্বর। যেন রবের মহিমায় ভরপুর তাদের গোটা জীবন। তারা শুকরিয়া জানাচ্ছে আর আপন মনে জিকির করতেছে। আমি ঠিক করেছিলাম তাদের নিয়ে ও একটা পেইন্টিং করবো।এখানকার রহস্যের মধ্যে পরে সব যেন হারিয়ে যাচ্ছে! বিছানা থেকে উঠলাম ছবি অঁাকার জন্য সকল জিনিস নামলাম কেননা পরে ভুলে যাব। তার মধ্যে আমরুপালির খাবার স্থানের পেইন্টিং অঁাকা বঁাকী।তাই ধীরে সুস্থে কাজ শুরু করি আকঁা শুরু করলেই পরবর্তী ধাপে এগোতে পারবো।(একটা পাখির কোলাহল ও নীরভ রাত ও ভোরের সূর্যের আগমন নিয়ে ছবি এখানে বসবে)।একটা সময় ছবিটা আর্ট করা শেষ হলো।ক্লিপ থেকে ছাড়িয়ে ছবিটা হাতে নিলাম মনের অনুভূতি জাগিয়ে রাখলাম ভারী চমৎকার হয়েছে দেখতে। শেষ রাতের এবং ভোরের সূযের্যর আগমন সহ পাখিগুলো আকাশের দিকে তাকিয়ে ডানা মেলে মোনাজাত ধরে আছে।এমন অদ্ভুত রহস্যের মুখোমুখি না হলে নিশ্চয়ই আরেকটু সুন্দর করে অঁাকতে পারতাম।তবে যাই হোক শরহে পুর এটা আমার প্রথম পেইন্টার তাও আবার রবের মহিমান্বিত জিকির সাথে নিয়ে।আশারাখি একদিন সকল রহস্যময় ঘটনার উদঘাটন করব ও সে সাথে কোম্পানির জন্য সব চেয়ে সেরা পেইন্টার একেঁ নিব তাতে করে বস খুশি হয়ে আমার প্রমোশন শীর্ষে স্থানে পেঁৗছে দিবে ইনশাআল্লাহ। পেইন্টার টা দেয়ালে টাঙ্গিয়ে নিদ্রা যাপনে পাড়ি জমালাম।কিছুক্ষণ পর উঠে অযু করে জায় নমাজ নিয়ে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে তজবি জপতে জপতে ফজরের আজান হলো আমি নামাজ আদায় করে বাহিরে বের হলাম।বিধান আর সালেহ আজ নামাজ পড়ে ঘুমায়নি মনে হয়! হতে পারে নাস্তা বানাতে ব্যাস্ত।আমাদের ইসলামে আছে সকালে ফজর পড়ে রিজিকের সন্ধানে বেরিয়ে পড়।

হাদিসের আলোকে ব্যাখ্যা ও ফজিলত: ফজরের পর রিজিকের সন্ধানে বের হওয়া মহানবী (সা.)-এর সুন্নাহ ও বরকতময় সময়। হাদিসে এসেছে, “হে আল্লাহ! আমার উম্মতের জন্য ভোরের সময়কে (সকালবেলা) বরকতময় করেদেন” (আবু দাউদ, তিরমিজি)। এটি শুধুমাত্র পার্থিব উপার্জনের সময় নয়, বরং ইবাদত ও আল্লাহর অনুগ্রহ খেঁাজার শ্রেষ্ঠ সময়, যা আল-কুরআনে (সূরা জুমুআহ: ১০) কাজ ও ইবাদতের সমন্বয় হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।অতএব, ফজরের নামাজ আদায় করে, কোরআন তেলওয়াত ও জিকিরের মাধ্যমে দিনের শুরু করা এবং এরপর হালাল উপার্জনের জন্য প্রচেষ্টা চালানোই ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা। (চলবে)

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়