প্রকাশ : ০৯ ডিসেম্বর ২০২৪, ০৯:৪৩
মুক্তা পীযূষের গুচ্ছ কবিতা

নৈঃশব্দ্যের নৈবেদ্য
অনুভূতি প্রকাশে ভাষা জরুরি নয়,
হৃদয়ের সাথে নৈঃশব্দ্যের রাস্তার সরাসরি সংযোগ।
ক্ষুদ্র কিন্তু কিছু অলক্ষণীয় কাজেও প্রকাশ পায় অনুভূতি
কিছু কিছু নৈঃশব্দ্য শতকথা বলে দেয় অনায়াসে।
স্বর্গ হতে কিছু মুহূর্ত আসে যাদের মানসিক শান্তি ও স্বস্তি দানের সামর্থ্য আছে
নীরবতাও দামি হয় আমার কাছে কখনো হিরের চেয়ে
এবং তা এ কথাও মনে করিয়ে দেয়
ভালোবাসা এখানে বিরাজমান আজীবন।উৎসভীতি
আলোর প্রভায় সাধুর ভয় বেড়ে যায় হঠাৎই
নটরাজের ঘুঙুর, সুরা আর পানশালায়, সাধুর নিজেকে লুকিয়ে রাখার মিছে প্রয়াস দেখে দেবতারাও হাসেন দূর থেকে।
পানশালায় নর্তকীর ঘুঙুরের অনবরত নিক্কনেও সাধুর ভয় ঝাড়বাতির আলোকচ্ছটায়
মুদিত নয়নে বারংবার তার জানতে চাওয়া : আলো ছাড়া মুক্তির নেই কি কোনো উপায় আর?
অথচ জীবনভর তার কেবল আলোরই সাধনা, আলোতেই মিশে একাকার হওয়ার নিরন্তর প্রয়াস।আত্ম-উদ্ঘাটন
রংধনুর সাতরঙে নিজেকে সাজাতে ভালোবাসতো যে মেয়েটি
স্বেচ্ছা অজ্ঞাতবাস তার প্রায় কুড়ি বছর!
এই অজ্ঞাতবাসের পূর্বে; জীবনের টানাপোড়েনে বর্ণিল মেয়ের ধূসর হয়ে যাওয়া শাড়িটি, রঙিন করতে হঠাৎ একদিন যার আগমন, যার একটু ছোঁয়ায় রং লেগে থাকতো শতভাগ নিশ্চয়তা নিয়ে;
আজকাল তাকে বড্ড বেশি ফিকে লাগে অজ্ঞাতবাসিনীর।
সকল প্রতিকূলতা জয় করে নিজেকে তার রঙে রাঙিয়ে, বসন্তে হরষে মেতে শিবজ্ঞানে এখনও নিত্য যার পূজা
সে কি তবে নামেই অর্জুন; যে নিজের প্রগতির তূণে নতুন বাণ হিসাবে অজ্ঞাতবাসিনীকে ব্যবহার করছে মাত্র!