প্রকাশ : ৩১ মার্চ ২০২৬, ০৯:৩৯
সাক্ষাৎকার : মোহাম্মদ হানিফ
ইংরেজি ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রে চাঁদপুর অনেকটাই পিছিয়ে আছে

একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার প্রধান হাতিয়ার হলো ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষা ও উন্নত ক্যারিয়ারের জন্য আইইএলটিএস (IELTS) এবং স্পোকেন ইংলিশ এখন সময়ের দাবি। চাঁদপুরের শিক্ষার্থীদের এই স্বপ্ন পূরণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে ‘কনসেপ্ট আইইএলটিএস অ্যান্ড স্পোকেন সেন্টার’। আজ আমরা কথা বলব এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ হানিফের সঙ্গে। জানব প্রতিষ্ঠানটির পথচলা, বিশেষত্ব এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে।
চাঁদপুর কণ্ঠ : শুরুতেই জানতে চাইবো, চাঁদপুরের শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ভাষা ও উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে এই প্রতিষ্ঠানটি ঠিক কোন লক্ষ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল?
মোহাম্মদ হানিফ : পৃথিবীর অত্যন্ত গুরুত্ব ভাষার মধ্যে ইংরেজি অন্যতম। শুধু বিশ্বের উন্নত দেশে নয়, বরং বাংলাদেশেও এই ভাষার অত্যন্ত গুরুত্ব রয়েছে। ইংরেজি ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশে সব জেলা থেকে চাঁদপুর জেলা অনেকটাই পিছিয়ে আছে। যখন দেখলাম চাঁদপুর থেকে ঢাকায় গিয়ে ওঊখঞঝ করা অনেক কঠিন ও ব্যয়বহুল তাই অনেক মেধাবী ও গরীব শিক্ষার্থীরা ঢাকায় গিয়ে তার পক্ষে ওঊখঞঝ করে দেশের বাহিরে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব নয়। তাই আমার অনেক দিনের স্বপ্ন ছিল চাঁদপুরে একটি IELTS and Spoken Center প্রতিষ্ঠা করা। সেই স্বপ্ন নিয়েই প্রতিষ্ঠা করেছি Concept IELTS and Spoken Center যা এখন চাঁদপুরবাসীর কাছে খুবই পরিচিত একটি নাম।
চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনাদের এখানে আইইএলটিএস এবং স্পোকেন ইংলিশের পাশাপাশি ‘প্রফেশনাল ইংলিশ’ ও ‘কিডস স্পোকেন’ রয়েছে। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বাজারে আপনাদের কোর্সগুলো অন্য প্রতিষ্ঠানের চেয়ে কেন আলাদা?
মোহাম্মদ হানিফ : ধন্যবাদ। চমৎকার প্রশ্ন। আমি একটি বিষয় লক্ষ্য করলাম আমরা অনেকে ইংরেজি Spoken শিখি কিন্তু বিদেশিদের সাথে কথা বলতে গেলে তাদের কথা কিছুই বোঝা যায় না। তখন নিরূপায় হয়ে অনেকে বলে বিদেশিরা মুখে রেখে কথা বলে বা অর্ধেক বলে যা মোটেই ঠিক নয়। বিদেশিরা যখন কথা বলে তখন তারা International Phonetics Alphabet (IPA) ব্যবহার রীতি অনুসারে বলে, যা চাঁদপুরের শিক্ষার্থীরা কল্পনাও করতে পারে না। তাই আমি প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে সঠিক উচ্চারণ ও ওচঅ নিয়ম অনুসারে চর্চা করিয়ে থাকি। যা অনন্য ও অসাধারণ। এখানকার শিক্ষার্থীরা ও করে Native-দের করে। অভিভাবকরা খুবই সন্তুষ্ট। শিক্ষার্থীরা এখান থেকে Spoken English কোর্স করে কথা বলে। সত্যিকার অর্থে আন্তর্জাতিক ইংরেজি ভাষার Flavour পায়। সাথে Fluently।
চাঁদপুর কণ্ঠ : আপনারা মক টেস্ট এবং চাকরিজীবীদের জন্য সান্ধ্যকালীন ব্যাচের সুবিধা দিচ্ছেন। চাঁদপুরের শিক্ষার্থীদের মাঝে এই সেবাগুলোর সাড়া কেমন পাচ্ছেন?
মোহাম্মদ হানিফ : আমি খেয়াল করলাম অনেক চাকুরিজীবি আছে যাদের ইচ্ছা থাকা স্বত্বেও সে সময়ের অভাবে IELTS and Spoken English শিখতে পারে না। তাই ভাবলাম যদি সন্ধ্যাকালীন ব্যাচের ব্যবস্থা করা যায় তাহলে তারাও এই সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে তাদের মনের ইচ্ছা পূরণ করতে পারবে। তাই আমি সন্ধ্যাকালীন ব্যাচের ব্যবস্থা রেখেছি। আলহামদুলিল্লাহ এখন অনেকেই Spoken and IELTS করার সুযোগ পাচ্ছে।
চাঁদপুর কণ্ঠ : চাঁদপুরের মতো জেলা শহরে শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ভীতি দূর করে তাদের আন্তর্জাতিক মানের পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো কী কী?
মোহাম্মদ হানিফ : ধন্যবাদ, অত্যন্ত সুন্দর একটি প্রশ্ন করেছেন। যদি কোন শিক্ষার্থী দেশের বাহিরে পড়াশোনা ও উচ্চতর ডিগ্রি নেওয়ার জন্য যেতে হয়, তাহলে তাকে অবশ্যই IELTS পরীক্ষা দিয়ে সনদ অর্জন করতে হবে। তার সেক্ষেত্রে ভালো একটি score লাগবে যা ন্যূনতম ৬.০ থেকে ৬.৫ পতে হয়। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, এখানে ভর্তি হওয়ার পর দেখি অনেকে ইংরেজি Reading পড়া, শুদ্ধভাবে উচ্চারণ করা, শব্দ ভাণ্ডারে যথেষ্ট ঘাটতি এবং শুদ্ধভাবে বাক্য লেখাও তাদের জন্য কঠিন হয়ে যায়। তাই মূল IELTS এ যাওয়ার আগে তাদেরকে Foundation কোর্স Complete করিয়ে তারপর IELTS এর মূল অনুশীলনে যাই। সুতরাং এমনতো অবস্থায় IELTS এর ভালো Score করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করেছি One to One IELTS and Spoken Batch.
চাঁদপুর কণ্ঠ : এ পর্যন্ত আপনাদের সেন্টার থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে বিদেশের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে বা পেশাগত জীবনে সফল হয়েছেন এমন বিশেষ কোনো সাফল্যের কথা আমাদের পাঠকদের জানাবেন কি?
মোহাম্মদ হানিফ : আলহামদুলিল্লাহ। অনেক শিক্ষার্থী আছে যারা এখান থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য USA, UK, Canada ইত্যাদি দেশে সুনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশোনা করছে। এমনকি অত্র প্রতিষ্ঠান থেকে Spoken English কোর্স করে অনেকেই সাইপ্রাস, চায়না, ইন্ডিয়া, মালয়েশিয়ায় পড়াশোনা ও চাকুরি করছে।
চাঁদপুর কণ্ঠ : চাঁদপুরকে একটি ‘স্কিলড হাবে’ রূপান্তর করতে বা আপনাদের এই সেন্টারকে নিয়ে সামনে বড় কোনো পরিকল্পনা বা নতুন কোনো উদ্যোগ রয়েছে কি?
মোহাম্মদ হানিফ : আল্লাহ যদি আমাকে হায়াত দান করেন, তাহলে আমার লক্ষ্য আছে এখানে British Council এর IELTS মূল পরীক্ষার একটি Exam Center আনা। তাহলে অনেকের উপকার হবে এবং অতিরিক্ত খরচ কমে যাবে যা উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের হার বেড়ে যাবে এবং এই উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের মধ্যে দিয়ে দেশকে আরো উন্নত করবে। বিশেষ করে চাঁদপুর আরো একধাপ এগিয়ে যাবে।








