মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ
  •   হাজীগঞ্জে ৩ ডাকাত গ্রেফতার। পিকআপ সহ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার

প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০২৬, ১১:১১

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রমজানের ছুটির ঘাটতি পূরণ প্রসঙ্গে

মো. সিদ্দিকুর রহমান
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রমজানের ছুটির ঘাটতি পূরণ প্রসঙ্গে

মুসলমান ধর্মালম্বীদের কাছে মাহে রমজান পবিত্র মাস। এ মাসে ইবাদতের মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তার নৈকট্য লাভ করা সম্ভব। এ মাসে নফল ইবাদত করলে ফরজ ইবাদতের সমান সওয়াব পাওয়া যায়। দান-খয়রাত করলে অন্যান্য মাসের চেয়ে বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। এজন্য রোজার মাসে যাকাত প্রদানের হিড়িক পড়ে। রমজান মাসে পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছে।

বর্তমান সরকারের শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন দায়িত্ব প্রাপ্তির প্রথম দিনই বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ও অন্তবর্তীকালীন সরকারের সৃষ্ট রমজানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটির বিষয়টি তাৎক্ষণিক সমাধান করেছেন। তিনি রমজানের ছুটির ঘাটতি পূরণেরও ইচ্ছা ব্যক্ত করেছেন।

মুসলমান ধর্মালম্বীদের কাছে মাহে রমজান পবিত্র মাস। এ মাসে ইবাদতের মাধ্যমে সৃষ্টিকর্তার নৈকট্য লাভ করা সম্ভব। এ মাসে নফল ইবাদত করলে ফরজ ইবাদতের সমান সওয়াব পাওয়া যায়। দান-খয়রাত করলে অন্যান্য মাসের চেয়ে বেশি সওয়াব পাওয়া যায়। এজন্য রোজার মাসে যাকাত প্রদানের হিড়িক পড়ে। রমজান মাসে পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছে। এ মাসে শিশু, আবাল-বৃদ্ধসহ প্রায় সকল ধর্মপরায়ণ মুসলমান সম্প্রদায়ের লোকজন রোজা রাখার পাশাপাশি পবিত্র কোরআন শরীফ তেলোয়াত করে অশেষ নেকি হাসিল করে থাকেন। শিশু শিক্ষার্থীর সহি কোরআন, কায়দা ও আমপারা শিক্ষার মাস হিসেবে পালন করে। ধনী-গরীব নির্বিশেষে তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সন্তানদের মক্তবে, মসজিদ বা নিজ গৃহে ধর্মীয় আলেম রেখে আরবি তথা ধর্মীয় শিক্ষা দিয়ে থাকেন। এ সংস্কৃতি অতীত থেকে হয়ে আসছে।

অতীতকালে পাড়া-গায়ে প্রায় প্রতিটি বাড়িতে কাছারি ঘর থাকত। সেখানে রাতে তারাবি পড়ানোর জন্য মাদরাসার শিক্ষক বা ছাত্রকে বিশেষ করে রমজানের ১ মাস খাওয়া-দাওয়া, থাকা-সহ অর্থের বিনিময়ে রাখা হতো। উক্ত ধর্মীয় শিক্ষক সকালবেলা বাড়ির শিশুদের কায়দা, আমপারা-সহ কোরআন শরীফ শিক্ষা দিতেন। আমাদের দেশের শিশুরা তৃতীয় শ্রেণি থেকে রোজা রাখা ও মসজিদে জামাতে নামাজ আদায়ের মাধ্যমে অভ্যাস তৈরি করে থাকে। এ ব্যবস্থা শত বছরের পুরনো।

শিশুকাল থেকে রোজা রাখার শিক্ষার্থীরা নৈতিক শিক্ষায় সমৃদ্ধ হয়ে থাকে। শিক্ষকতা পেশা অন্যান্য পেশার চেয়ে ব্যতিক্রম। এ পেশায় হৈচৈ, চিল্লাচিল্লির মাঝে শিক্ষকদের অত্যাধিক কথা বলতে হয়। এতে তাদের মস্তিষ্কে ক্ষয় ও চাপ পড়ে। স্বাভাবিকভাবে পাঠদান করার ফলে শিক্ষার্থীদের মাঝেও অনুরূপ ক্ষয় ও চাপ পরিলক্ষিত হয়। এর ফলে তাদের পুষ্টি-সমৃদ্ধ খাবারের পাশাপাশি অত্যাধিক বিশ্রাম প্রয়োজন।

তবে দেশের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে শিক্ষার ঘাটতি জিরো টলারেন্সে নামিয়ে আনতে হবে। শিক্ষার সবচেয়ে বড় দুর্নীতি হলো, শিক্ষার্থীকে ভালোভাবে পাঠদানের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা।

এ প্রসঙ্গে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষার ঘাটতি পূরণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে কতিপয় প্রস্তাবনা উপস্থাপন করছি— ১. শিক্ষক সংকট জিরো টলারেন্সে রাখতে হবে ২. শিক্ষার্থীর নিয়মিত উপস্থিতির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। উপস্থিতির জন্য পরীক্ষায় নম্বর, পুরস্কার, আর্থিক সুবিধা, সনদ প্রদান ও শিক্ষকদের জবাবদিহিতার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে ৩. জানুয়ারি মাসের ১ তারিখে বিনামূল্যের সকল পাঠ্যবই বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে। ২ জানুয়ারি থেকে পুরোদমে সকল বিষয়ে পাঠদান করতে হবে। কোনো অবস্থায়, অজুহাতে আংশিক বিষয় পাঠদান করা যাবে না। এজন্য সংশ্লিষ্ট বিষয় শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষককে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। খেলাধুলা বা কোনো অনুষ্ঠান ব্যতীত শ্রেণির কোনো কার্যক্রম ব্যহত করা যাবে না।

আমাদের দেশে সাধারণত জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি মাসে বই বিতরণ, খেলাধুলা, অনুষ্ঠান বা কোনো কারণ ছাড়া শ্রেণির পুরো কার্যক্রম হয় না। পরিদর্শনের আতঙ্কে শুধু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় ছুটির সময় পর্যন্ত আটকিয়ে রাখা হয়। কোনো কোনো স্কুলে দায়সারা পাঠদান করা হয়ে থাকে। সরকারি ও বেসরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিদর্শন ব্যবস্থা জোরদার না থাকায় প্রায় ২ মাস তাদের ইচ্ছেমতো ২ বা ৩ বা ৪ পিরিয়ড অনেকটা দায়সারা পাঠদান করে ছুটি দেওয়া হয়ে থাকে।

পরীক্ষার সেন্টার বিদ্যালয়গুলোর পাঠদান সবচেয়ে বেশি ব্যাহত হয়ে থাকে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য শুক্র, শনিবারসহ বিভিন্ন গুরুত্বহীন ছুটিতে, যেমন শীতকালীন ও গ্রীষ্মকালীন অবকাশে এসএসসি, উচ্চ মাধ্যমিক, ডিগ্রি পরীক্ষা নেওয়া যেতে পারে।

এ ছাড়া সাধারণত নভেম্বর মাসে বেশিরভাগ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। পুরো ডিসেম্বর মাস পরীক্ষার ফলের জন্য সময়ক্ষেপণ করা হয়। এ সময়ক্ষেপণ কমিয়ে ডিসেম্বর মাস থেকেই পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু করা যেতে পারে।

কবির ভাষায়, “বিশ্রাম কাজের অঙ্গ, একসাথে গাঁথা, নয়নের পাতা যেন নয়নে গাঁথা।” অনুরূপভাবে পড়াশোনা কর্মটি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের মস্তিষ্কের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করে। এজন্য শতাব্দ কল ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটির বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে। কাজের কাঠিন্য বিবেচনা করে কোনো অবস্থায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি হ্রাস বা সংকোচিত করা কাম্য নয়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর শারীরিক ও মানসিক প্রশান্তি ব্যাহত হয়।

বিশ্রাম বা ঘুমের ২টি বাস্তব উদাহরণ ও অভিজ্ঞতা অবতারণা করছিÑআমাদের দেশের শ্রমজীবীদের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন কাজ হলো মাটি কেটে মাথায় বহন করে অন্য স্থানে নেওয়া বা ইট শ্রমিকদের কাজ। তাদের ঘনঘন অনেকক্ষণ বিশ্রাম নিতে হয়। তাদের দিয়ে দুপুরের জোহরের নামাজের আজানের পর আর কাজ করানো যায় না। কাজের কাঠিন্য বিবেচনা করে সাধারণত বিশ্রাম ও সময় নির্ধারণ হয়ে থাকে।

অপরদিকে একজন লেখক হিসেবে বাস্তব অভিজ্ঞতা উপস্থাপন করছিÑএজন্য প্রয়োজন সুস্থ, স্বাভাবিক দেহ ও মন। লেখার জন্যও পরিমিত বিশ্রাম দরকার। পর্যাপ্ত ঘুম বা ক্লান্তিহীন মস্তিষ্ক এজন্য অতি প্রয়োজন। অভিজ্ঞতার আলোকে বলছি, শিশুর শিক্ষা ও লেখালেখির জন্য রাতের ঘুমের পর সকালবেলা অতি উত্তম। অথচ আমাদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সময়সূচি সম্পূর্ণ বিপরীত। আমাদের সময়সূচিতে দুপুরের গরমে খাবার খাওয়া, বিনোদন তথা খেলাধুলার অধিকার হরণ করা হয়েছে।

প্রবাদ আছে, “খারাপ লোকেরা শোনে না, যেমন ধর্মের কথা।” অনুরূপভাবে শিক্ষকেরা শিশুবান্ধব সময়সূচির চেয়ে বেশি প্রাধান্য দেন তাদের শিক্ষকবান্ধব সময়সূচিকে। অপরদিকে কর্মকর্তারা প্রাধান্য দেয় সরকারি সময়সূচিকে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়