প্রকাশ : ১৪ মে ২০২৬, ০৮:৫৯
কচুয়ায় চাঁদাবাজি ও হামলার অভিযোগে সুজন সরকার গ্রেপ্তার

কচুয়া উপজেলার খিলমেহের গ্রামে চাঁদাবাজি, হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও একাধিক সহিংস ঘটনার অভিযোগে অভিযুক্ত সুজন সরকারকে আটক করেছে কচুয়া থানা পুলিশ।
|আরো খবর
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগপত্রে জানা যায়, একই গ্রামের মৃত আব্দুল মতিন মাস্টারের ছেলে সুজন সরকারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাদক, জুয়া, হামলা, চাঁদাবাজি ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ ছিলো। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোছা. হাসনেয়ারা বেগম কচুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত সুজন কিশোর বয়স থেকেই বেপরোয়া জীবনযাপনে জড়িয়ে পড়ে এবং পরিবারের সদস্যসহ স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির ওপর হামলার ঘটনা ঘটায়। স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, মোখলেছ কবিরাজ, মুসলিম শিকারী, জুনাব আলী, শফিক, আলম পাঠান, আলী মিয়া, লনি মিয়া, দেলোয়ার, পরান, হযরত আলী, আল আমিন, শাহআলম, সোলেমান, বারেক ও জসিম মৃধাসহ অন্তত ১৫ জন বিভিন্ন সময়ে তার হামলার শিকার হয়েছেন।
এছাড়া জয়নাল মৃধার ছাগল চুরি, একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলে জাতীয় পতাকা পোড়ানো এবং স্থানীয় মসজিদের তহবিল আত্মসাতের অভিযোগও তার বিরুদ্ধে আনা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, তিনি মসজিদের মুসল্লি ও ইমামের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করতেন এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতেন।
অভিযোগকারীর দাবি অনুযায়ী, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে সুজন নিজেকে রাজনৈতিক পরিচয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার শুরু করেন এবং বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেন। একইভাবে সিটি ব্যাংকের জোনাল ম্যানেজার জাহিদ সরকারের কাছ থেকেও চাঁদা দাবি ও হুমকির অভিযোগ ওঠে।
ভুক্তভোগী হাসনেয়ারা বেগম জানান, তার অবসরপ্রাপ্ত স্বামীর পেনশনের টাকার লোভে সুজন সরকার ৬ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে পরিবারকে এলাকাছাড়া করা ও প্রাণনাশের হুমকি দেন।
তিনি আরও জানান, গত ৪ মে ২০২৬ তারিখ বিকেলে সুজন সরকারসহ অজ্ঞাতনামা ৪০ থেকে ৪৫ জন ব্যক্তি তার বাড়িতে গিয়ে প্রকাশ্যে চাঁদা দাবি ও হুমকি দেন। পরে এ অভিযোগের ভিত্তিতে কচুয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলে বিষয়টি তদন্তে নেয় পুলিশ। সর্বশেষ পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত সুজন সরকারকে আটক করে।
এ বিষয়ে কচুয়া থানা পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মামলা ও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।
ডিসিকে/ এমজেডএইচ








