শুক্রবার, ০১ মে, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ০১ মে ২০২৬, ১৬:৫৯

মাদকে সব হারিয়ে শেষে আত্মহনন অটোরিকশা চালকের

ফরিদগঞ্জ ব্যুরো।।
মাদকে সব হারিয়ে শেষে আত্মহনন অটোরিকশা চালকের

জীবিকার তাগিদে এক সময়ে পাড়ি জমান প্রবাসে। স্বপ্ন ছিলো সুযোগ-সুবিধা ভালো করলে নিজের পাশাপাশি পরিবারের হাল ধরবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয়নি। ফিরে এলেন স্বদেশে। সিএনজি অটোরিকশা চালিয়ে শুরু করলেন স্বপ্ন বাস্তবায়নের নতুন লড়াই। কিন্তু তার আগেই সঙ্গ দোষে মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন এক সন্তানের জনক রিয়াজ উদ্দিন (৪৩)।

সিএনজি অটোরিকশা চালিয়ে প্রতিদিন যা আয় হতো, তা মাদক সেবন করে শেষ করে দিতেন তিনি। সংসারে অবুঝ শিশু, স্ত্রী ও বৃদ্ধা মা থাকতেন অর্ধাহারে-অনাহারে। শুরু হয় পারিবারিক কলহ। পরিবার বারবার মাদক ছাড়তে বললেও ফিরে আসেননি তিনি। অবশেষে ভয়াল মাদকের থাবা থেকে মুক্তির পথ হিসেবে বেছে নেন আত্মহত্যার পথ।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল ২০২৬) রাতে ফরিদগঞ্জ পৌর এলাকার ৭ নং ওয়ার্ডের কাছিয়াড়া গ্রামের রাঢ়ী বাড়ি থেকে গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মৃত রিয়াজ উদ্দিন ওই বাড়ির মৃত খোরশেদ আলমের বড়ো ছেলে। রিয়াজ উদ্দিনের স্ত্রী মিতু আক্তার জানান, আমার স্বামী সিএনজি অটোরিকশা চালিয়ে যা আয় করতো, তা দিয়ে গাঁজা-ইয়াবা সেবন করতো। এ নিয়ে আমাদের প্রায় বিরোধ হতো। মাদক সেবনে বাধা দিতেই বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে আমাদের দৃষ্টি এড়িয়ে বসত বিল্ডিংয়ের ভেতরে একটি কক্ষে সিলিং ফ্যানের হুকে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে আমার স্বামী। আর কেউ যেন এভাবে মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে না পড়ে।

রিয়াজের মা নুরুন্নাহার বেগম হাউমাউ করে কেঁদে বলেন, ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছিলাম, পরিবারের হাল ধরবে। দেশে ফিরে সিএনজি চালানো শুরু করে। কয়েক মাস আগে থেকে মাদকে জড়িয়ে পড়ে। অনেক চেষ্টা করেছি ফিরিয়ে আনার, আসেনি। মাদক সেবনে বাধা দেওয়ার কারণেই সে আত্মহত্যা করেছে।

ফরিদগঞ্জ থানার উপপুলিশ পরিদর্শক আবু তাহের জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কোনো অভিযোগ না থাকায় লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়