বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ
  •   ১৬-২৫ মার্চ নদীতে বালুবাহী বাল্কহেড চলাচল বন্ধ থাকবে : নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়

প্রকাশ : ২৮ নভেম্বর ২০২৫, ১৭:৫৬

সেতুটি নির্মাণ ব্যয় ৪ হাজার ৭৮৩ কোটি টাকা

মতলব-গজারিয়া ঝুলন্ত সেতু প্রকল্প পরিদর্শনে কোরিয়ার প্রতিনিধি দল

মাহবুব আলম লাভলু।।
মতলব-গজারিয়া ঝুলন্ত সেতু প্রকল্প পরিদর্শনে কোরিয়ার প্রতিনিধি দল
মতলব-গজারিয়া ঝুলন্ত সেতু নির্মাণ প্রকল্প পরিদর্শনে কোরিয়ান ফান্ডিংয়ের প্রতিনিধি দলের উপস্থিতিতে সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন।

মতলব উত্তর ও মুন্সিগঞ্জের মধ্যে নদীর ওপর ঝুলন্ত সেতু প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন কোরিয়ার প্রতিনিধি দল। শুক্রবার (২৮ নভেম্বর ২০২৫) সেতু এলাকার ওপর আকাশপথে হেলিকপ্টার সার্ভে করেন কোরিয়ান ফান্ডিংয়ের প্রতিনিধি মিস্টার বিয়ন, মিস্টার পার্ক, মি. সিন এবং দোভাষী মো. বাবলু ভূঁইয়া। এ সময় সাথে ছিলেন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত ও দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন।

গত ৬ নভেম্বর সেতুর স্থান পরিদর্শন করেন সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ, সেতু মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ভিখারোদ্দৌলা ভুলু চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।

কোরিয়ার প্রতিনিধি দল সেতু প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন শেষে তারা হেলিকপ্টার থেকে অবতরণ করেন মতলব উত্তর উপজেলার কালীপুর বাজার সংলগ্ন মাঠে। সেখানে স্থানীয় নেতাকর্মী ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তারা প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে মতবিনিময় করেন। সভায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত ও দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন। বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ওবায়দুর রহমান টিপু, জেলা বিএনপির সহ- সভাপতি অধ্যাপক ডা. শামিম, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ-সভাপতি আজহারুল হক মুকুল, বিএনপি নেতা আনিছুর আউয়াল প্রমুখ। সভাটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মিয়া মনজুর আমিন স্বপন।

আলহাজ্ব ড. মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন বলেন, এই সেতু শুধু মতলব নয় চাঁদপুর, মুন্সিগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালীসহ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা পাল্টে যাবে। এই সেতু দেশের অর্থনীতিতে নতুন গতি আনবে। শিল্পাঞ্চল, পর্যটন ও কর্মসংস্থানে বড়ো ধরনের পরিবর্তন আসবে। সেতু হলে মতলব-গজারিয়া অঞ্চল রাজধানীর সঙ্গে দ্রুত যুক্ত হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ছেংগারচর পৌর বিএনপির সভাপতি নান্নু মিয়া প্রধান, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক তোফায়েল পাটোয়ারী, উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক রাশেদুজ্জামান টিপু, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. শাহজালাল, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নুরুল হুদা ফয়েজী, সদস্য সচিব জয়নাল পাটোয়ারী পিনুসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

সেতু মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় এ সেতুটির অনুমোদন দেওয়া হয়। সেতু নির্মাণে ই ডি সি এফ (ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ড) দক্ষিণ কোরিয়া এক্সিম ব্যাংক সহজ শর্তে (০.০১% হারে) ঋণ দিয়েছে। মতলব উত্তর ও গজারিয়ার মধ্যে মেঘনা-ধনাগোদা নদীর ঝুলন্ত সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৭৮৩ কোটি টাকা। সেতুর দৈর্ঘ্য ১.৮৫ কিলোমিটার। সংযোগ সড়কের দৈর্ঘ্য ৭.৫১ কিলোমিটার (গজারিয়া অংশে ৫.৪৬০ কিলোমিটার ও মতলব উত্তর অংশে ২.০৫৫ কিলোমিটার)। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ঘ১-এর সাথে ইন্টারচেঞ্জ ডেভেলপমেন্ট ২.১ কিলোমিটার। নদী শাসন কাজের দৈর্ঘ্য ২.২ কিলোমিটার। টোল প্লাজা একটি এবং ওজন স্টেশন হবে দুইটি। ভার্টিক্যাল ক্লিয়ারেন্স হবে ২৫ মিটার। এই সেতু বাস্তবায়ন হলে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার বাড়বে ০.২৩%।

মতলব উত্তর ও মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে যে স্বপ্ন বুকে লালন করে আসছিলেন, মেঘনা-ধনাগোদা নদীর ওপর সেই দৃষ্টিনন্দন ঝুলন্ত সেতু নির্মাণের কাজ এখন আর স্বপ্ন নয়, বাস্তবায়নের খুব কাছাকাছি। ৪ হাজার ৭৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হতে যাওয়া এই ১.৮৫ কিলোমিটার দীর্ঘ কেবল স্টেইড সেতু হবে দেশের ইতিহাসে প্রথম এমন প্রকল্প, যেখানে নদীর মূল প্রবাহে একটিও পিলার থাকবে না।

সেতুটি নির্মিত হলে রাজধানীর সাথে চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী ও ভোলার সরাসরি যাতায়াতের সময় অর্ধেকে নেমে আসবে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চাপ কমবে, দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলের বাণিজ্য ও পর্যটনে বড়ো পরিবর্তন আসবে, জমির মূল্য বৃদ্ধি পাবে ও নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে উঠবে।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়