রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য

প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৩

পাঠক ফোরামের কবিতা

অনলাইন ডেস্ক
পাঠক ফোরামের কবিতা

ক্ষুদীরাম দাস বুকের গভীরে নীরবে রক্তক্ষরণ

বিশ্বাসের সুতো ছিঁড়ে গেল আজ এক নিমিষের ঝড়ে,

পরের মানুষ বাড়লো ঘরেই, নিজের মানুষ পর করে।

ঢাকা যাওয়ার বাহানা গড়ে ফিরলো যখন ঘরে,

বুকের ভেতর জ্বললো আগুন, দৃশ্য দেখার পরে।

যাকে আমি ভেবেছিলাম সুখের ঘরের নদী,

সে-ই তো আজ ডুবিয়ে দিলো স্রোতের অবধি।

হাতেনাতে ধরা পড়ে নীরব হলো রাত,

কাকে দেবো দোষ বলো, কার ওপর এই ঘাত?

অভিযোগের পাহাড় ঠেলে ঝগড়া করিনি আর,

কান্না চেপে মেনে নিলাম নীরব পরাজয় আমার।

পাঁচ লাখ টাকা কাবিন বেঁধে বিয়ের দিলাম আয়োজন,

পরের হাতে সঁপে দিলাম নিজের ছিলো যে জন।

চোখের জলে বিদায় দিয়ে তুলে দিলাম বাসে,

অদেখা এক যন্ত্রণাতে বিশ্বসমাজ হাসে।

সবাই ভাবে শান্ত আমি, হলাম কতো বড়,

কে বোঝে মোর বুকের ভেতর বিষের পাথর জড়ো!

সংসারের এই নাট্যমঞ্চে একলা হলাম আমি,

সম্পর্কের এই চরম বিদায়ে মূল্য হলো দামী।

যে বিশ্বাসে বাঁধলাম ঘর সবিই হলো ছাই,

আজকে আমার সান্ত্বনা যে নিজের কাছেই নাই।

লজ্জা ঢাকা হাসির আড়ালে বুকটা ফাটে একা,

এমন চরম নিষ্ঠুরতা ভাগ্যে ছিলো লেখা।

সব হারিয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম শূন্য পথের পাড়ে,

এমন ব্যথার বিচার বলো কে দেবে এই সংসারে?

***

আমি বোকা হতে চাই

আমি একটু বোকা হতে চাই,

চতুরতার এই ভিড়ে শান্তি খুঁজে পাই।

যেখানে নেই কোনো প্যাঁচ বা ছলে বল,

মন খুলে যেখানে গায় ঝিরিঝিরি জল।

সব বুঝে সবসময় চালাক হয়ে থাকা,

বুকে যেন পাথরের মস্ত এক ঢাকা।

তার চেয়ে না হয় আমি সরল মনে র’ব,

কেউ ঠকালে শেষে একটু হেসে সইব।

হিসাবি দুনিয়ায় সবাই তো ম ম,

লাভ-ক্ষতির হিসাবে মন হয় কম কম।

তার চেয়ে বোকা হয়ে ভালো থাকা ভালো,

যেখানে হৃদয়ে জ্বলে বিশ্বাসের আলো।

অবুঝের হাসিটুকু মনে আনে শান্তি,

মিথ্যে অহংকার সব পায় যেন ক্লান্তি।

চালাকের মার খেয়ে কেঁদে মরে যারা,

বোকাদের ভিড়ে আজ সুখী দেখি তারা।

শত আঘাতেও যদি সরলতা না মরে,

সেই বোকামি ভালো এই স্বার্থপর ঘরে।

কেউ যদি বলে আমায় অবুঝ ও বোকা,

মনে রেখো, সে তো নয় প্রতারণা ধোকা।

আমি তাই বোকা সেজে শান্তিতে বাঁচি, স্বার্থের এই বাজারে সব ভালোবাসা যাচি।

ছবি-৩১

আবদুর নূর রাজ্জাক

মন্থনে অতিক্রান্ত দিনগুলো

তোমার এলোচুল

অধরের কম্পন

হাতের স্পর্শ

শরীরজুড়ে সুঘ্রাণ

বিভোর রজনী

আমার স্বপ্নের করিডোরে ছিল...

স্পর্শহীন অগলিত চুমো পড়েছিল

তোমার কপোলজুড়ে বেয়ে

পৃথিবীর কেউ কোনোদিন দেখেনি

তোলেনি অভিযোগ

শুধু তুমি আর আমি ছিলাম

ভাষাহীন আলাপন

তীক্ষ্ম তীব্র দৃষ্টিতে কেটেছে

মধুর যাতনা

সেই মন্থনের অতিক্রান্ত অনুভব

ফিরে আসে আমার হৃদয়ে

ফিরে আসে প্রচলিত দিনে,

গলিত অধ্যায়ে

যখন তুমি নেই

তখন আমি ভেবে ভেবে ব্যথা পাই।

***

নির্লিপ্ত দিনের গান

প্রাচীন বাসনা জেগে ওঠে মনে

আমাদের প্রেমের সেই দিনগুলো

আমরা ছিলাম সহস্র বছর

মাধবী রাতে

কত কথা বলেছি

চাঁদ আর তারার সাথে!

প্রেমের কথা, ফুলের কথা

নদী ও নারীর কথা

অনাগত মিলনের কথা।

তারপর পাখিরা এলো

তখনও নিঃশব্দ শিশির জাগেনি

আমরা অবিরাম কথা বলছি

সমুদ্রের কথা, নক্ষত্রের কথা।

কথা ফুরায় না,

গল্পের রাত ফুরায় না

ফুরায় শুধু এ জীবন!

যেমনি করে

ফুরিয়ে গেল ফুলের জীবন।

মো. তানজিদ কোতয়াল শিক্ষকের মহাআলোড়ন

অক্ষর শেখান কতজন, মানুষ গড়েন ক’জন?

জ্ঞান যেখানে দীপশিখা, বিবেক সেখানে মন।

শিক্ষক এসে মনের মাঝে সত্যের বীজ বোনেন,

অন্ধ সময়ের বুক চিরে আলোর পথ দেখান।

ভুলের মাঝে শাসন হয়ে, দুঃসময়ে স্নেহ,

পতনের পর উঠতে শেখান—হার মানা নয় গেহ।

শেখান—সত্য ক্ষীণ হলেও সত্যই শেষ জয়,

নীতিহীন প্রাপ্তির চেয়ে নীতির পথই শ্রেয়।

জ্ঞান শুধু জানার নয়, কাজে তার প্রকাশ,

মানুষের প্রতি মমতাতেই বিদ্যার পূর্ণ বিকাশ।

শেখান—উঁচু শিখর ছুঁয়েও মাটির কথা মনে,

বিনয় যার অলঙ্কার, মহত্ত্ব থাকে তার সনে।

নিজের ক্লান্তি আড়াল করে স্বপ্ন গড়েন কত,

একটি প্রাণের জাগরণে বদলে দেন শত শত।

আজকের ক্ষুদ্র শিক্ষার্থী আগামী দিনের প্রাণ,

তার চরিত্রে বেঁচে থাকে শিক্ষকের অবদান।

একদিন পেরিয়ে যাবে শৈশব, ফুরাবে পাঠশালার দিন,

তবু জীবনের প্রতিটি বাঁকে বাজবে সেই আহ্বান।

শিক্ষকের সত্য বেঁচে থাকে শিষ্যের কর্মে-চরিত্রে—

মানুষ গড়ার মহৎ সাধনা অমর থাকবে পৃথিবীতে।

***

হে স্বাগতম শরৎকাল

শরৎ এলে আকাশজুড়ে নীলের দরজা খোলে,

সাদা মেঘের নৌকা ভাসে বাতাসেরই জলে।

কাশফুলেরা মাথা নাড়ে নদীর ধারের ঘাসে,

মনে হয়, শৈশব বুঝি ফিরে এসেছে পাশে।

শিউলি ঝরে ভোরের পথে—সুগন্ধে ভরে প্রাণ,

দূর গাঁয়ের মেঠোপথে জেগে ওঠে আজান।

ধানের ক্ষেতে রৌদ্র নামে সোনালি কোনো ছলে,

প্রকৃতি তার গোপন কথা শিশির দিয়ে বলে।

পাখির ডাকে সকাল ভাঙ্গে, নদী গায় প্রিয় গান,

বটের ছায়ায় বসে থাকে হারিয়ে যাওয়া প্রাণ।

কত স্মৃতি হাওয়ায় ভাসে, নাম না জানা সুরে,

কত আপন মুখ ফিরে আসে নীল আকাশের কোণে।

শরৎ যেন বলে—“মানুষ, একটু থেমে দাঁড়াও,

যা হারিয়েছ জীবনের পথে, তার হিসাবটা নাও।”

সময় তো আর নদীর মতো ফিরে আসে না কভু,

ঝরে যাওয়া শিউলি কি আর ফিরে পায় তার রঙটুকু?

তবু কেন এত ছুটে চলা, এত কিসের তাড়া?

জীবন তো এক শরৎ-সকাল—স্বল্প আলোয় ভরা।

শরৎ এলে আমি আকাশের দিকে তাকাই,

হারিয়ে যাওয়া মানুষটাকে নিজের মাঝে পাই।

যদি কোনোদিন শরৎ শেষে নেমে আসে শীত,

তবু নীলের স্মৃতি থাকুক হৃদয়জুড়ে নীত।

সুমন সরকার জন্মভূমি

আমার নাম নজরুল ইসলাম

হ্যাঁ, এ নামেই বাবা-মা ডাকতো আমায়

জন্ম আমার বাংলায় এক নিবিড়

পল্লীর কোণে

বাংলা তখন কোন দেশ ছিলো না

বিশাল এক উপমহাদেশের এক টুকরো ছিল আমার জন্মভূমি বাংলা

আমার দেশের তখন কোন

রাষ্ট্র ধর্ম ছিলো না

বিশাল পরাধীন দেশের তেত্রিশ কোটির জনগণের মধ্যে

আমিও ছিলাম একজন।

জনগণের সমানসংখ্যক দেবতাও

আমার সেই কাঙ্গাল দেশে ছিলো।

এত দেবতাও যেমন দুঃখী মানুষের

দুঃখ না পারতো দূর করতে

আমিও তেমনি পারতাম না

তাই অগণিত নিরীহ আর

অকর্মণ্য দেবতার ন্যায় আমিও ছিলাম

হতভাগা দেশবাসীর কষ্টের গান গাইতাম।

এম আর এম শোভন নিরীহ পৃথিবী

নিরীহ পৃথিবী, অসহায় প্রকৃতি

কেন এই নিয়তির খেলা,

হে মানুষ তোমার কত প্রয়োজন

ধ্বংসের জন্য করেছো আয়োজন।

ধিক্কার জানাই মানুষ সভ্যতাকে

যারা হিংস্রাত্মক,

মনোভাবে নিয়ে ধ্বংস করেছো

পৃথিবী তার প্রকৃতির রহস্যকে।

মানুষের লোভ আর হিংসার হুঙ্কারে,

আজ ধুঁকে মরে লালিত এই পৃথিবী,

স্বার্থের টানে রক্তের প্লাবণে,

সবুজ পৃথিবী কেনো লাশে ভরা।

নিরীহ আলো আর শান্ত বাতাস,

কান্না চেপে রাখে শুধুই প্রশ্নের বাণী—

মানুষের এই ধ্বংসের উন্মাদনায়,

কোথায় লুকাবে নিষ্পাপ ধরণী?

ইকরা ক্ষতচিহ্ন

মানুষকে ভাঙাই আজ যুদ্ধ যেনো;

দেয় উন্মাদনা!

আঘাত করো, বিশ্বাস উড়াও;

স্বপ্নগুলো করো নিঃশেষণা,

অতঃপর ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটিয়ে;

জানতে চাও, ‘দুঃখিত হলাম কি না?’

কোথা আজ মুদ্রিত যেনো,

ক্ষমা মানেই, ‘ক্ষত মুছে যাওয়া?’

বলতে পারো কী?—‘কত দামে কেনা যাবে,

হারিয়ে যাওয়া বিশ্বস্ততা?’

ধারের ক্ষত শুকায়, কিন্তু কথিত ব্যথা দাগ টেনে যায়!

কখনো কি ভেবেছিলে, ‘শব্দেরও যে ধার থাকে?’

সেই ধারের দংশনে মানুষও ছাই হতে পারে।

সব কথা রক্ত না ঝরালেও, করে দেয় নিঃস্ব।

তাইতো আমিও আজ আপনারই কাছে—

‘দুঃখিত!’

ড. আব্দুস সাত্তার প্রকৃতির রঙে

নদীর বুকে পাহাড়ের ছায়া, আকাশজুড়ে মেঘাবেশ,

প্রকৃতির এই নীরবতায় জাগে ভালোবাসার আবেশ।

দূর পাহাড়ের গায়ে যেন রোদ্দুর লেখে যায় প্রিয় গান,

নদীর ঢেউয়ে ভেসে আসে তোমারই প্রেমজ অভিমান।

নীল আকাশের মায়াবী চাদর জড়ায় বিস্তীর্ণ বনভূমি,

শিউলি ফুলের গন্ধে ভরে ওঠে শরতের নীরব ভূমি।

পাখির ডানায় ভোরের আলো ছুঁয়ে যায় দু’জনার মন,

বহতা নদীর কাছে বসে শুনি হৃদয়েরই গোপন অনুক্ষণ।

তুমি পাশে থাকলে স্রোতস্বিনী নদী হয়ে যায় এ প্রাণ

পাহাড় হয়ে আগলে রাখি তোমার সকল অভিমান।

আকাশজুড়ে যত তারা, সবই যেন প্রেমের ভাষা—

প্রকৃতির প্রতিটি রঙে তোমাকেই খুঁজি হে ভালোবাসা।

মনির হোসেন খান চিঠি

একটা চিঠি লিখা অসমাপ্ত রয়ে গেলো, কলমের কালি ফুরোয়নি

শুধু ইচ্ছেটা মরে গেছে।

একটা নীল খামে উড়ে আসা প্রেয়সির বিলাপ শোনা হলো না আর,

প্রতিক্ষার অন্ত জ্বালা ফুরিয়েছে

একরাশ ঘৃণার আবরণে ঢেকেছে মন

শক্ত মাটির গভীরে চাপা পড়েছে

যুগের অপেক্ষার।

তবুও মন কাঁদে তবুও আনমনে

চোখ পড়ে যায় মলিন ঐ চিঠির পাতাটায়।

একটা চিঠি লিখা আর শেষ হলো না অনন্ত অপেক্ষায়।

***

মানব

মানব হয়ে জন্মালে তুমি

মানুষ হতে পারলে কই

মানব তো সবাই হয়

মানুষ হয় কতোজনায়?

মানুষ বুঝি আজ বিলুপ্ত প্রাণী

দেখা কি মিলবে জাদুঘরে?

মানব তুমি বড্ড অবহেলা

মানুষ হও— লও সালাম সমাদরে।

মানবতা সভ্যতা আজ শিকেয় উঠেছে

জন্মেছে নিঠুরতা

বাতাস ভারি কষ্টের নিঃশ্বাস

ফুরোয়নি তবু মনুষত্বের ক্ষীণ আশা।

মানব হয়ে জন্মালে তুমি

মানুষ হতে পারলে কই

মানব আর মানুষের মাঝে

দেখবো ফারাক কতই।

সেঁজুতি সাবরিন ইতি প্রণয়

বহুদিন কাজল চোখে পরেনি তোমার চোখ,

প্রিয়ার সাথে শব্দ বোনা তোমার বুঝি বারণ?

অবহেলায়, অপেক্ষায় কবিতা আজ নির্বাক,

তোমার নিখোঁজ চিঠি চলে যাওয়ার কারণ।

শব্দের বোঝা নিঃশব্দে বয়ে বেড়ায় মন,

শব্দকে নিঃশব্দ করতেই তোমার যত আয়োজন।

পড়লে মনে শেষে খুঁজো নাকো আমায়,

ভালোবাসি তবুও ইতি, প্রিয় প্রণয়।

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়