প্রকাশ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪১
প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচিতে চাঁদপুর সদরে ৩০ হাজার বৃক্ষরোপণ
পরিবেশ রক্ষায় ইউএনও জামিউল হিকমার ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে চাঁদপুর সদর উপজেলায় জুন থেকে সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত প্রায় ৩০ হাজার ফলদ, বনজ ও ঔষধি চারা রোপণ করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি দফতর এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের সক্রিয় অংশগ্রহণে এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হয়।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম এন জামিউল হিকমার দূরদর্শী নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে ৬১ প্রজাতির উন্নতমানের চারা রোপণ করা হয়। এর মধ্যে কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া, সোনালু, জারুল, কাঠগোলাপ, বকুল, ছাতিম, রঙ্গন, বেল, জাম্বুরা, গাব, চালতা, কদবেল, লেবু, কাউ, ডেউয়া, জাম, নিম, অর্জুন, জলপাই, কাঁঠাল, খেজুর, নারিকেল, তাল, হরীতকী, বাসক, হিজল, জামরুল, কাঠবাদাম, সেগুন, আমড়া, তমাল ও কদম অন্যতম।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের ১২৬টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে ১৫০টি করে চারা রোপণ করা হয়েছে। এছাড়া এলাকার ১৭২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সর্বনিম্ন ৫০টি এবং ৮০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সর্বনিম্ন ৪০টি করে গাছ লাগানো হয়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দফতরেও ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ করা হয়। এর মধ্যে কৃষি বিভাগ প্রায় ১ হাজার এবং মৎস্য বিভাগ ১০০টি চারা রোপণ করেছে। পাশাপাশি বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ১ হাজার চারা রোপণ করা হয় এবং স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে চারা সরবরাহ করা হয়।
চলতি কর্মসূচিতে পুনর্খনন করা খালগুলোর দু পাড়ে বৃক্ষরোপণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক পুনর্খননকৃত 'বিশ্বখাল', 'চান্দ্রা খাল' ও 'বালিয়া খাল'-এর দু পাড়ে ইতোমধ্যে প্রায় ৫ হাজার চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। চারাগুলোর সুরক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের অর্থায়নে শক্ত বেড়া নির্মাণসহ আনুষঙ্গিক পরিচর্যার ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম এন জামিউল হিকমা বলেন, "আমরা মানসম্মত চারা রোপণের পাশাপাশি সেগুলোর সঠিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সুরক্ষার ব্যবস্থা করেছি। বিশ্বখাল, চান্দ্রা খাল ও বালিয়া খালের পাড়ে রোপণ করা চারাগুলো এখন বেশ দৃশ্যমান। গাছগুলো বড় হলে তা থেকে স্থানীয়রা ফল, ছায়া ও শুদ্ধ অক্সিজেন পাবে। একই সাথে পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান পশুপাখি ও কীটপতঙ্গের নিরাপদ আবাসস্থল ও খাদ্যের সংস্থান হবে।"
গাব গাছ রোপণের বিশেষ উপকারিতা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, "গাব গাছ বড় হয়ে ফল দিলে এলাকার জেলেরা তা ব্যবহার করে জাল টেকসই ও মজবুত করতে পারবেন। এতে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।"
উপজেলায় বৃক্ষরোপণকে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই কর্মসূচিতে রূপ দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে ইউএনও জামিউল হিকমা জানান, সদরের প্রতিটি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যাতে বছরে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ করে, সে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে আগামী এক বছরের মধ্যে চাঁদপুর সদরের সবুজায়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে।
উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, শুধু সংখ্যা বৃদ্ধি নয়, রোপণ করা চারাগুলো বাঁচিয়ে রেখে পূর্ণাঙ্গ গাছে পরিণত করাই এখন মূল লক্ষ্য। সুপরিকল্পিত এই টেকসই বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে চাঁদপুর সদরকে আরও সবুজ, পরিবেশবান্ধব ও জীববৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে।







