রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
জাতীয়আন্তর্জাতিকরাজনীতিখেলাধুলাবিনোদনঅর্থনীতিশিক্ষাস্বাস্থ্যসারাদেশ ফিচার সম্পাদকীয় অন্যান্য
ব্রেকিং নিউজ

প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২:১৭

৬০ হাজার টাকা তুললেও ১ লাখের এসএমএস! ব্যাংকে গিয়ে বিড়ম্বনায় গ্রাহক

শামীম হাসান।।
৬০ হাজার টাকা তুললেও ১ লাখের এসএমএস! ব্যাংকে গিয়ে বিড়ম্বনায় গ্রাহক

৬০ হাজার টাকা তুললেও মুঠোফোনে ১ লাখ টাকা উত্তোলনের ম্যাসেজ! নিজ হিসাবের এমন গরমিলে উদ্বিগ্ন হয়ে ব্যাংকে ছুটে যান গ্রাহক মো. মহিউদ্দিন। তবে সমস্যার সমাধানের বদলে উল্টো ব্যাংক কর্মকর্তাদের রূঢ় আচরণের শিকার হতে হয় তাঁকে।

অভিযোগ উঠেছে, ফরিদগঞ্জ কলাবাগান মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত জনতা ব্যাংক পিএলসি শাখায় গ্রাহক হয়রানির পাশাপাশি পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গেও চরম অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী মো. মহিউদ্দিন (লতিফগঞ্জ ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার প্রভাষক) জানান, চলতি মাসে তিনি এটিএম কার্ডের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা করে তিন দফায় মোট ৬০ হাজার টাকা তোলেন। অথচ তার মুঠোফোনে বার্তা আসে ২০ হাজার টাকা করে পাঁচ দফায় মোট ১ লাখ টাকা উত্তোলনের। বিষয়টি নিয়ে ব্যাংক ব্যবস্থাপক ফখরুল ইসলামের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি লিখিত আবেদন নিয়ে আসতে বলেন।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল ১০টা ২০ মিনিটে মহিউদ্দিন ব্যাংকে গিয়ে ব্যবস্থাপককে পাননি। পরে সেকেন্ড অফিসার মো. সাইদ হোসেনের কাছে গেলে তিনি দুটি ফরম দেন। তবে ফরম পূরণের নিয়ম জানতে চাইলে ওই কর্মকর্তা চরম বিরক্তি প্রকাশ করেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।

এদিকে সকাল ১১টা পর্যন্ত ব্যবস্থাপক কার্যালয়ে না আসায় সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকরা (দৈনিক ইত্তেফাক, আরটিভি ও দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের প্রতিনিধি) নিজেদের পরিচয়পত্র দেখিয়ে ব্যবস্থাপকের খালি কক্ষের ছবি তুলতে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় সেকেন্ড অফিসার সাইদ হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, ‘কিসের সাংবাদিক?’ শুধু তা-ই নয়, তিনি নিরাপত্তাকর্মীদের ইশারা দিয়ে সাংবাদিকদের ব্যাংক থেকে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেন।

ব্যাংকের কর্মকর্তাদের এ ধরনের অসৌজন্যমূলক আচরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অন্য একাধিক গ্রাহকও। আদর্শ একাডেমির শিক্ষক রাসেল ইব্রাহিম অভিযোগ করেন, একদিন ব্যাংকে গেলে শাখা ব্যবস্থাপক তাকে ‘এই হোলাডা’ বলে সম্বোধন করেন। রায়হান খান নামে অপর এক গ্রাহক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "জনতা ব্যাংকে এসে আমার শিক্ষা হয়ে গেছে। জীবনে আর কখনো এই ব্যাংকে আসব না।" আল-আমিন ভূঁইয়া ও মো. আজাদ নামে দুই গ্রাহকের অভিযোগ, ব্যাংকটির কতিপয় কর্মকর্তা গ্রাহকদের সঙ্গে এমন আচরণ করেন, যেন এটি তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি।

নির্ধারিত সময়ে অফিসে অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে শাখা ব্যবস্থাপক ফখরুল ইসলাম বলেন, "অফিসিয়াল কাজে বাইরে ছিলাম।" আর গ্রাহক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কোনো বক্তব্য দিতে পারব না।"

---

  • সর্বশেষ
  • পাঠক প্রিয়