প্রকাশ : ১৪ মে ২০২৬, ০৮:২৫
আইন পেশায় সফলতার দশ পেরিয়ে একাদশ বর্ষে পদার্পণ করেছেন অ্যাডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার

কিছু মানুষ আছেন, যাদের পরিচয় আলাদা করে দিতে হয় না; নামেই তারা পরিচিত হয়ে ওঠেন। তেমনই কুমিল্লা আদালত অঙ্গনের এক সুপরিচিত মুখ অ্যাডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার। আইন পেশায় দক্ষতা ও সাফল্যের পাশাপাশি তিনি একজন দায়িত্বশীল গণমাধ্যমকর্মী হিসেবেও সুনাম অর্জন করেছেন।
|আরো খবর
২০১৬ সালের ১৪ মে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সনদ লাভের পর একই বছরের ৯ জুন কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতিতে যোগদানের মাধ্যমে তিনি আইন পেশায় আত্মপ্রকাশ করেন। শৈশব থেকেই মানবসেবার ব্রত নিয়ে আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। তাঁর পিতা স্বর্গীয় নিখিল চন্দ্র সরকার ছিলেন একজন আইনজীবী সহকারী (মুহুরী)। বাবার স্বপ্ন ছিলো ছেলে একদিন আইনজীবী হবে। তবে দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, সনদ লাভের কিছুদিন আগেই তাঁর পিতা মৃত্যুবরণ করায় ছেলেকে আইনজীবী হিসেবে দেখে যেতে পারেননি।
সনদ লাভের পর কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও সাবেক পিপি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান লিটন এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সহ-সভাপতি সিনিয়র অ্যাডভোকেট মো. নূরুল আমিন ভূঁইয়া'র সেরেস্তায় জুনিয়র হিসেবে সততা, নিষ্ঠা ও প্রজ্ঞার সঙ্গে কাজ করে তিনি ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলায় দক্ষতা অর্জন করেন। দীর্ঘ পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তিনি নিজেকে একজন দক্ষ, মেধাবী ও ন্যায়নিষ্ঠ আইনজীবী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
আইন পেশায় সফলতার এক দশক
আইন পেশায় সফলতার দশ বছর অতিক্রম করে একাদশ বর্ষে পদার্পণ করেছেন এই কর্মযোগী মানুষটি। তাঁর প্রখর বিচারবোধ, গভীর আইনি জ্ঞান ও মক্কেলদের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ তাঁকে সহকর্মী ও সাধারণ মানুষের কাছে একজন আস্থাভাজন ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে। ন্যায় প্রতিষ্ঠার প্রতি অটল অবস্থান এবং পেশাগত সততা তাঁকে আইন অঙ্গনে সম্মানজনক অবস্থানে অধিষ্ঠিত করেছে।
আইন পেশার পাশাপাশি তিনি সাংবাদিক, সমাজসেবক ও সংগঠক হিসেবেও সুপরিচিত। সমাজের বিভিন্ন সমস্যা, মানুষের অধিকার, সামাজিক সচেতনতা ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে তাঁর সক্রিয় ভূমিকা প্রশংসিত। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও তিনি সমানভাবে সক্রিয়। তাঁর বিশ্বাস— “মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারাটাই প্রকৃত মানবতা।”
আইন পেশায় ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে নিজের অভিজ্ঞতা ও সফলতার গল্প তুলে ধরে অ্যাডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার বলেন, “বাবার অনুপ্রেরণায় মানবসেবার ব্রত নিয়ে সাংবাদিকতা থেকে আইন পেশায় এসেছি। আইন পেশায় সফল হতে হলে ধৈর্য, অধ্যবসায় ও পেশার প্রতি ভালোবাসা থাকতে হবে।”
নবীনদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “যারা শর্টকাট পথ খোঁজেন, তাদের জন্যে আইন পেশা নয়। শুরুতেই অর্থের চিন্তা না করে নিষ্ঠা ও ধৈর্যের সঙ্গে কাজ করে যেতে হবে। একসময় সফলতা নিজেই ধরা দেবে।”
তিনি আরও বলেন, “আইন পেশা একটি মহান ও চ্যালেঞ্জিং পেশা। জ্ঞান, প্রজ্ঞা, সততা, দায়িত্ববোধ ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে এ পেশার মর্যাদা রক্ষা করতে হয়। সেবার মনোভাব নিয়ে অধিকারবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই একজন আইনজীবীর প্রকৃত দায়িত্ব।”
১৯৮০ সালের ৫ এপ্রিল চাঁদপুর জেলার মতলব দক্ষিণ উপজেলার লামচরী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন অ্যাডভোকেট তাপস চন্দ্র সরকার। ছোটবেলায় মাতৃহারা হয়ে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠলেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী ও প্রাণবন্ত। শিক্ষাজীবনে শিক্ষক ও সহপাঠীদের কাছেও ছিলেন প্রিয়মুখ।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি স্ত্রী রিতা রানী মজুমদার, এক কন্যা ও এক পুত্র সন্তানকে নিয়ে কুমিল্লা মহানগরীর কালিয়াজুরী এলাকায় বসবাস করছেন।
আইন পেশায় গৌরবময় ১০ বছর পূর্তিতে সহকর্মী, বন্ধু-বান্ধব ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। সকলের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও তিনি সততা, ন্যায়নিষ্ঠা ও মানবিক মূল্যবোধ ধারণ করে সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাবেন।
ডিসিকে/ এমজেডএইচ








