প্রকাশ : ২২ এপ্রিল ২০২২, ০০:০০

দু’হাজার বিশের একুশে রামাদান
ভোর পাঁচটা বাজে,
চৌধুরী সাহেব ইন্তেকাল করেছেন
দেখি ফেসবুক পেজে।
এমন অপ্রত্যাশিত খবর শুনে
হাহাকার করে উঠল মন,
হায়! আয়নাতলী হারালো আজ
বটবৃক্ষ সম অভিভাবক, অতি আপনজন।
ঢাকা রায়ের বাজার বুদ্ধিজীবী গোরস্তানে
তিনি শুয়ে নিশ্চুপ আওয়াজে,
ওনার জানাজা, দাফন কাফন
সবই হয় ইসলামী রেওয়াজে।
ইঞ্জিনিয়ার নূরুল ইসলাম চৌধুরী
অমর হয়ে রইবেন তাঁর কাজে,
যেমন, তিনি রেখে গেলেন
আয়নাতলী গ্রামকে এক অপরূপ সাজে।
মানবতার কল্যাণকামী দানবীর তিনি
চাঁদপুর-শাহ্রাস্তি সমাজে,
বিদ্যালয়, মসজিদ মাদ্রাসা
করলেন প্রিয় গ্রামটির মাঝে।
‘উলফাতুন নেছা তালিমুল কুরআন’ মাদ্রাসা
প্রতিষ্ঠা করলেন নিজে,
তাই কুরআন শিক্ষা ও হিফ্জের সুযোগ পেলো
বহু শিশু, কিশোর ও হুফ্ফাজে।
নিভৃত পল্লীর অবহেলিত জনপদে তিনি
জ্বালাতে শিক্ষার আলোক বাতি,
প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘ফরিদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়’
যা আজ এলাকার গর্ব ও পরিচিতি।
প্রশাসনকে আনতে গ্রামের দোরগোড়ায়
ইউনিয়ন পরিষদ করতে ভূমি করেছেন দান,
তাই উন্নত হলো পথ-ঘাট, হাট-বাজার
আর আয়নাতলী পেলো উন্নয়নের নতুন সোপান।
প্রবাসেও তিনি ছিলেন ধার্মিকতার প্রতিচ্ছবি
ছিলেন স্বমহিমায় কীর্তিমান,
ধর্মীয় শিক্ষা বিস্তারে রিয়াদে করেছেন
হিফ্জখানা ও মাদ্রাসা'ই আদ্বীনিয়া নির্মাণ।
অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও দাতা তিনি
বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ও কলেজের,
তারই বদান্যতায় যুগ যুগ উপকৃত হবে
হাজারো ছাত্র-ছাত্রী রিয়াদের।
প্রতিযোগিতার বিশ্বে রিয়াদে একটা মাত্র
বাংলা স্কুল মোটেও যথেষ্ট নয়,
সেই ভাবনায় ইংলিশ মিডিয়াম প্রতিষ্ঠায়
করলেন মনস্থির,
শত বাধা, প্রতিকূলতা পেরিয়ে এগুলেন তিনি
সহযোগিতা করেছিলেন রাষ্ট্রদূত
কাজী গোলাম দস্তগীর।
তিনি যেমন ছিলেন শিক্ষানুরাগী
তেমনি মানবতাবাদী দেশপ্রেমিক,
দেশের ক্রান্তিকালে ঝড়-বন্যা-জলোচ্ছ্বাসে
আর্তমানবতার সেবায়, দরদী নির্ভীক।
বাংলাদেশী শ্রমিক ক্যাম্পে যারা
বেতন পেতো না ভুখা অসহায়,
নিজ হাতে অর্থ-খাদ্য বিলিয়েছেন তিনি
পাশে থেকেছেন হয়ে তাদের সহায়।
উপসাগরীয় যুদ্ধের কালে হাজারো বাংলাদেশী
বিতাড়িত হয়েছিল কুয়েত হতে,
তাদের থাকা খাওয়া ও পুনর্বাসনে তিনি
সাধ্যমত এগিয়ে গেছেন দূতাবাসের সাথে।
দেশ বিদেশে খ্যাতিমান ছিলেন
ধারক বাহক বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের,
সততা ন্যায় আদর্শের পরাকাষ্ঠা তিনি
প্রবাসে উপমা ছিলেন দেশী পণ্য বাণিজ্যের।
স্বাধীনতা যুদ্ধেও আছে তাঁর বিরাট অবদান
লন্ডন প্রবাসী তখন, যুক্ত হয়েছেন
আবু সাঈদ চৌধুরীর সাথে,
যুদ্ধের তহবিল আর বিশ্বজনমত গঠনে
ছুটেছেন অবিরাম লন্ডনের পথে পথে।
যাঞ্ছাকারী ফিরেনি কখনো
খালি হাতে তার দুয়ার হতে,
জনহিতৈষী, মানবতার মূর্ত প্রতীক তিনি
স্রষ্টার তরে করেছেন দান নিরবে নিভৃতে।
এমন মনীষীর বিয়োগ বেদনা
অন্তর কি আর বুঝে?
সর্বকালে সর্ব দেশ’ই এমন
মানবতার কল্যাণকামী দানবীর খোঁজে।
দোয়া রইলো তাঁর মাগফিরাত কামনায়
প্রভু হে গাফুর গাফ্ফার রহিম রহমান,
ক্ষমা করো, দয়া করো বান্দারে তোমার
পরকালে দিও তারে উত্তম প্রতিদান।
কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপনে
আয়নাতলী গ্রাম ও পার্শ্ববর্তী এলাকার সর্বস্তরের মানুষের পক্ষে,
কবিতা রচনায় : হাফেজ মুহাম্মদ হাসান মানসুর মাক্কী।
উৎসর্গ : মরহুম প্রকৌশলী নূরুল ইসলাম চৌধুরী স্মরণে।
সৌজন্যে : আয়নাতলী আহলুল খাইর ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ।